শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এভারেস্টের উচ্চতা যৌথ-পরিমাপের ভারতীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেপালের

২৮ ডিসেম্বর, এনডিটিভি : পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা পুণরায় যৌথভাবে পরিমাপের জন্য ভারত যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এভারেস্টের উচ্চতা পুণরায় মাপার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে। তবে নেপাল জানিয়েছে, তারা নিজেরাই সেটা সম্পন্ন করবে।

নেপালের সার্ভে ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল গনেশ ভট্ট পিটিআইকে বলেন, তবে ভারত ও চীনের কাছ থেকে নেপাল এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহায়তা নেবে।

চীন-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বত চূড়ার উচ্চতা যৌথভাবে পরিমাপের জন্য ভারত যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যানের পেছনে চীনের ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের পর ভারতের ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিএসটি) এভারেস্টের উচ্চতায় পরিবর্তন হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ৭৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে হিমালয় অঞ্চলের এই দেশটিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। ভূমিকম্পে নিহত হয় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। ঘরবাড়ি ছাড়া হয় আরো কয়েক লাখ মানুষ।

ডিএসটি’র অধীনস্থ ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ নেপালের জরিপ দফতরের সাথে যৌথ বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এভারেস্টের উচ্চতা পুণরায় পরিমাপের প্রস্তাব দেয়।

সার্ভেয়ার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (এসজিআই) মেজর জেনারেল গিরিশ কুমার বলেন, ‘তারা আমাদের প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি। এখন তারা বলছে, এখানে তারা ভারত বা চীন কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করবে না। তারা নিজেরাই এভারেস্টের উচ্চতা পুণরায় মাপবে।’

মেজর জেনারেল কুমার জানান, কাঠমান্ডুতে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিল ভারতের একজন প্রতিনিধি। সেখানে চীনসহ পৃথিবীর আরো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভট্ট জানান, ‘ভারতের দিক থেকে যৌথভাবে এভারেস্টের উচ্চতা মাপার প্রস্তাব ছিল। তবে, আমরা নিজেরাই এটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

চীনও এ রকম কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, চীন কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

তিনি জানান, চীন ১৯৭৫ ও ২০০৫ সালে এভারেস্টের উচ্চতা মেপেছিল। অন্যদিকে ভারতের জরিপকারীরা ১৯৫৬ সালে এভারেস্টের উচ্চতা মেপেছিল। ভারতের বিজ্ঞানীরা ব্রিটিশ আমলেও এভারেস্টের উচ্চতা মেপেছিল বলে জানান তিনি।

ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ‘ভারতই প্রথম ১৮৫৫ সালে এভারেস্টের উচ্চতা মাপে এবং একে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুড়া হিসেবে ঘোষণা করে।’

ভট্ট জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এখন তারা এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

তিনি জানান, ‘ভয়াবহ ভূমিকম্প নেপালের মূল মাপকাঠিকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অন্যান্য দেশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হবে।’

ভারতের কাছে তারা লেভেলিং তথ্য চেয়েছেন অন্যদিকে চীনের কাছে গ্র্যাভিটি তথ্য সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। ভট্ট জানান, এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয়ের জন্য এ তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, ‘উচ্চতা পরিমাপের জন্য আমরা চীনা এলাকায় প্রবেশ করবো না। ২০১৯ সালে এ কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ