শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

জিন্নাহর নীতি ছিল ঐক্য বিশ্বাস ও শৃঙ্খলার ---পাকিস্তানী হাইকমিশনার

 

স্টাফ রিপোর্টার : ‘কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নীতি ছিল ঐক্য, বিশ্বাস ও শৃঙ্খলার। তার সে নীতি আজো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের দাবি রাখে।’ 

গত সোমবার সকালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবর্তক জিন্নাহর ১৪২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের চ্যান্সেরি ভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে দেশটির হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকী এ কথা বলেন। হাইকমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে আরো বলা হয়, এতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত কর্মকর্তা, পাকিস্তানী শিক্ষার্থী ও হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। 

পাকিস্তানী হাইকমিশনার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর দাসত্ব থেকে মুক্তি দেয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেয়ায় কায়েদ-ই-আজমের বিজ্ঞ ও নিঃস্বার্থ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি উপমহাদেশের কোটি মুসলিম ঋণী। রফিউজ্জামান সিদ্দিকী আরো বলেন, ভারতীয় মুসলিমদের বর্তমান দুঃখজনক অবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, ভারতবর্ষের মুসলিমদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত ছিল আশীর্বাদস্বরূপ।

অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতির জনক জিন্নাহর জন্মদিন উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনান ডেপটি হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার। আলোচনা শেষে জিন্নাহর জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেক কাটা হয়।

উল্লেখ্য, তৎকালীন বোম্বে প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত করাচির ওয়াজির ম্যানশনে ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এই স্থান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অংশ। তার বাবার নাম জিন্নাহভাই পুনজা ও মায়ের নাম মিঠাবাই। তার বাবা ছিলেন একজন গুজরাটি ব্যবসায়ী। জিন্নাহ ছিলেন তার বাবা মায়ের চার পুত্র ও তিন কন্যার মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান। জন্ম নাম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহভাই হলেও কালের বিবর্তনে ‘ভাই’ শব্দটি খসে পড়ে। পরিণত হন পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা। 

১৯১৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা পর্যন্ত জিন্নাহ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল থাকেন। পাকিস্তানে তাকে কায়েদে আজম (মহান নেতা) ও বাবায়ে কওম (জাতির পিতা) হিসেবে সম্মান করা হয়। স্বাধীনতার এক বছর পর ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৭১ বছর বয়সে জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করেন। পাকিস্তানে তিনি গভীর প্রভাব রেখে গেছেন। তবে ভারত ও বাংলাদেশে তিনি ততটা আলোচিত নন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ