শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে রেহাই পেলেন সেই এসি ল্যান্ড

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাগবিতন্ডার জেরে এক আইনজীবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায় নিশ:র্ত ক্ষমা চেয়ে হাইকোর্টে রেহাই পেয়েছেন। লিখিত আবেদনে নিশ:র্ত ক্ষমা প্রার্থনার পর আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন তবে তাকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন আদালত।

গতকাল বহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সহকারী এই আদেশ দেন। 

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কক্ষে বসা নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিনোদ বিহারী রায়কে সাজা দেয়ার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায়কে গত ১৭ ডিসেম্বর তলব করেন হাইকোর্ট। নির্দেশ মোতাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায় গত বুধবার আদালতে হাজির হয়ে মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু মৌখিকভাবে ক্ষমা চাওয়ায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করে লিখিতভাবে ক্ষমার আবেদন করার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রাখেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিরোদা রানী রায়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। ঘটনাটি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী সৈয়দ মহিবুল কবির ও আইনজীবী কাজী হেলাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও মামলাটির শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ভ্রাম্যমাণ আদালতের অপব্যহার রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা চান।

দুপুরে লিখিত বক্তব্য নিয়ে তা আদালতে দাখিল করেন বিরোদা রানীর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। তিনি পড়ে আবেদনটি শোনান। আবেদনে বিরোদা রানী বলেছেন, আমি ওই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।

এসময় আদালত বলেন, আপনি মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমান আদালত) আইনের অপব্যবহার করেছেন। আপনি এ ঘটনার জন্য অনুতপ্ত? আপনি যা লিখেছেন তা কি বুঝে লিখেছেন? তখন বিরোদা রানী রায় হ্যাঁ সূচক জবাব দেন।

আদালত তখন বলেন, পাবলিক অফিস সামাল দেয়া কঠিন কাজ। সমস্যা হতেই পারে। আমরাও আইনি কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নেই। অনেক সময় এমিকাস কিউরি নিয়োগ দেই। আপনার উচিৎ ছিল সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ছোট হওয়ার কিছু নেই।

আদালত বলেন, আপনি জনগণের সেবক। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় প্রশাসনের বেতন হয়। তাদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করবেন। শুধু আইনজীবী নয় সাধারণ মানুষের সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করবেন। নিরোদ বাহারী রায় একজন আইনজীবী, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে বার কাউন্সিলে বলতে পারতেন। ক্ষমতা আমাদেরও আছে, যেখানে সেখানে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন না। আপনি আরো সংযত হতে হবে। মনে রাখবেন এটা স্বাধীন দেশ।

ক্ষমার বিষয়ে আদালত বলে, আপনি ২০১৬ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। আবেদনে আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বয়স, চাকরি এবং এই ঘটনায় অনুতপ্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আপনার নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদনটি গ্রহণ করলাম।

পরে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, আদালতের নির্দেশ মত ওই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত ও নিজের ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করেছিলেন। আদালত তাকে সতর্ক করে দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কক্ষে বসা নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায়কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিরোদা রানী রায়। গত ১২ ডিসেম্বর একটি নামজারির মামলায় শুনানি করতে গেলে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের কারাদন্ড দেয়া হয় ওই আইনজীবীকে। এই ঘটনার পর দিনাজপুর বার এসোসিয়েশনের আইনজীবীরা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগ করলে বিরোদা রানী রায়কে বীরগঞ্জ ধেকে তাৎক্ষণিকভাবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ