শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
Online Edition

ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে সিলেট নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়

 

সিলেট ব্যুরোঃ বহুদিন পর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। তবে বৈধ কোন জায়গায় নয়। অবৈধভাবে নগরীর ৫ নং ওয়ার্ডের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর কার্যালয়।

জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন সুবিধাভোগী নেতা দলীয় কার্যালয়ের নামে ফুটপাত দখল করেছেন এবং দীর্ঘদিন থেকে বহাল তবিয়তে তারা আছেন। এই ব্যাপারে যেমন জানেন না মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা, তেমনিভাবে জানেন না সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। এই অবৈধ কার্যালয়ের বিরুদ্ধে কোন এ্যাকশনে যাচ্ছেন না দলের নেতারা। 

২০০৪ সালে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল গুলশানে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সিলেট নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম আহমদ। তার নাম অনুসারে নগরীর চালিবন্দরে অবস্থিত ইব্রাহীম স্মৃতি সংসদে কার্যক্রম চালায় নগর আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ধরে শাহী ঈদগাহ এলাকায় অবৈধভাবে নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় গড়ে উঠলেও যেমন নজর পড়েনি নেতৃবৃন্দের, তেমনি নজর পড়েনি নগরবাসীর। গত ২/৩ দিন ধরে এ ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে টনক নড়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সেক্রেটারি আসাদ উদ্দিন আহমদের। 

গতকাল সন্ধ্যায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে দখলদারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যে বা যারাই করুক এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনুরূপ মন্তব্য করেন সেক্রেটারি আসাদ উদ্দিন আহমদ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শাহী ঈদগাহ মিনারের ঠিক উত্তর দিকে ফুটপাত দখল করে টিন শেডের একটি ঘর তৈরি করা হয়েছে। তার ঠিক সামনে একটি সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছে। এই সাইনবোর্ডে লিখা রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট মহানগর, শাহী ঈদগাহ সিলেট। ঘরটির মধ্যে রয়েছে একটি টেবিল ও তিনটি বেঞ্চ। কোন কার্যক্রম না চালানো হলেও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা সন্ধ্যার পরে আড্ডা দেন বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে এই সাইনবোর্ড সাটানো অবস্থায় বিক্রি করা হয়েছে গরুর মাংস। এর পিছনেও ছিলেন ঐ আওয়ামী লীগ নেতা। 

জানা যায়, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম পাপ্পু এই দোকানের মালিক। তার সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য না পাওয়া গেলেও সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ. মুগনি বলেন, এটা কোন দলীয় কার্যালয় নয়, এই কার্যালয় পাপ্পুর দোকান। তবে এখানে কোন কর্মসূচি বা সভা-সমাবেশ হয়নি। এ ব্যাপারে সিলেট নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, যারা শাহী ঈদগাহ এলাকায় ফুটপাত দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেছে, তারা সুবিধাভোগী লোকেরা। এরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে এবং আর্থিকভাবে তারা লাভবান হচ্ছেন, এরা চাঁদাবাজ। এদের চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ ব্যাপারে এখনও কিছু জানেননি, তবে ফুটপাত দখল করে কেউ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় তৈরি করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোন দলই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে সিসিক কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ