রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

যুদ্ধ করে পাকিস্তানকে চার টুকরো করুন --সুব্রমনিয়াম

সুব্রমনিয়াম

 

২৭ ডিসেম্বর, পার্স টুডে : ভারতে বিজেপির সিনিয়র নেতা ও রাজ্যসভার এমপি সুব্রমনিয়াম স্বামী বলেছেন, ভারতেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত এবং তাকে চার টুকরো করে দেয়া উচিত। তার মতে, যুদ্ধের জন্য গুরুত্বসহকারে প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশ, পাকিস্তানে গোয়েন্দাগিরির দায়ে সেখানকার কারাগারে বন্দি হয়ে থাকা কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার মা ও স্ত্রীর সঙ্গে পাক কর্তৃপক্ষের কথিত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী ওই মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য কুলভূষণকে সেখানকার সামরিক আদালত মৃত্যুদ-ের সাজা ঘোষণা করেছে।   

সুব্রমনিয়াম স্বামী মুম্বাইতে গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কুলভূষণের মা ও স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানে যে আচরণ করা হয়েছে তা দ্রৌপদির বস্ত্রহরণের সমান, যেজন্য মহাভারত হয়েছিল।’

কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার মা ও স্ত্রীর

তিনি বলেন, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক এবং আমরা এজন্য খুব দুঃখিত। এখন সময় এসে গেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত যাতে পাকিস্তানকে চার ভাগে বিভক্ত করা যায়।’

শ্রী স্বামী অবশ্য বলেন, “আমি এটা বলছি না যে আমাদের খুব শিগগিরি এটা (যুদ্ধ ঘোষণা) করা উচিত। কিন্তু এজন্য এখনই আমাদের গুরুত্ব সহকারে প্রস্তুতি শুরু করে দেয়া উচিত।” তিনি অবিলম্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাক নাগরিকদের মেডিক্যাল ভিসা প্রদান বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে পাক কারাগারে বন্দি থাকা কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে গত ২৫ ডিসেম্বর সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তার মা ও স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে ভারত। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের ফলে কুলভূষণের স্ত্রী ও মাকে মঙ্গলসূত্র, হাতের বালা, টিপ খুলে ফেলাসহ পোশাকও পরিবর্তন করতে হয়। এমনকী পায়ের জুতোও পাল্টে  ফেলতে হয়। সন্দেহজনক কিছু থাকার অভিযোগে কুলভূষণের স্ত্রীর জুতোও ফেরত দেয়নি পাক প্রশাসন।

এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে বলা  হয়, ওর মধ্যে সন্দেহজনক কিছু ছিল, সেইজন্যেই ফেরত দেয়া হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, নিরাপত্তার নামে পরিবারের সদস্যদের মঙ্গলসূত্র, টিপ এবং হাতের বালা পর্যন্ত খুলে রাখতে বলা হয়। জামাকাপড়ও পাল্টানো হয়। এতে তাদের সংস্কৃতি এবং ধর্মবিশ্বাসকে ছোটো করা হয়েছে। তাছাড়া তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে দেয়া হয়নি। এবং বললেই তাতে বাধা দেয়া হয়েছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কুলভূষণের স্ত্রী-র জুতোজোড়া বৈঠকের পরে ফেরতও দেয়া হয়নি!’

পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের বক্তব্য, কুলভূষণের স্ত্রীর জুতোয় কিছু থাকায় সেটি ফেরত দেয়া হয়নি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য ওই বক্তব্য ‘নিতান্ত হাস্যকর’ বলে দাবি করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ