শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কুলভুষণ যাদবের অবসরের নথি দেখতে চায় পাকিস্তান

 

 

২৬ ডিসেম্বর, ইন্টারনেট : পাকিস্তানে আটক ভারতীয় নৌবাহিনী কর্মকর্তা ও ‘র’ এর চর কুলভুষণ যাদব, তার মা অবন্তী এবং স্ত্রী চেতনার সঙ্গে সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরে কথাবার্তা বলেছেন।

  বৈঠকের শুরুতে কুলভুষণ যাদবের ৯০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর অভিযোগ এনেছে পাকিস্তান। মা ও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে দেয়া ওই ভিডিও বার্তায় সে তার নৌবাহিনীর পরিচয় স্বীকার করে এবং তার পরিচিতি নম্বর জানায়। মা ও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করায় সে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সে জানিয়েছে, তার সাথে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে কথাবার্তা বলেছে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ। ‘আমার মা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলার জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম আমি। পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ সে ব্যবস্থা করায় আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’

 বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে ‘মানবিক কারণে’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল জানিয়েছেন, বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে মানবিক কারণে। মুসলিম ঐতিহ্যও এখানে কাজ করেছে।

ড. ফয়সাল জানান, বৈঠকের সময় পাশের একটি কাঁচে ঘেরা কক্ষে ছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার জে.পি সিং। তিনি তাদের কথোপকথন দেখেছেন, কিন্তু কিছু শুনতে পাননি। নিরাপত্তার জন্য এভাবেই বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিল। এমনকি বৈঠকে বসার আগে দুই মহিলাকে তাদের পোষাকও বদল করতে হয়েছে। ৪০ মিনিট ধরে কথা বলেন তারা। নির্ধারিত সময় ৩০ মিনিট হলেও যাদব ও তার স্ত্রীর অনুরোধে ১০ মিনিট সময় বাড়ানো হয়। বৈঠকের আয়োজন করায় পাকিস্তান সরকারকে ধন্যবাদ জানান কুলভুষণের মা।

যাদবের পরিবার ওমান থেকে একটি বাণিজ্যিক বিমানে ইসলামাবাদ পৌঁছায়। ইসলামাবাদ থেকে আবার তারা ফিরতি ফ্লাইটে মাস্কটে যাবেন। এরপর সেখান থেকে তারা নয়াদিল্লীতে ফিরবেন। জে.পি সিং দিল্লী থেকেই তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি দিল্লীতে ছিলেন।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর পক্ষে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং ব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করেছেন কুলভুষণ যাদব। ড. ফয়সাল বলেন, কুলভুষণের কাজ ছিল ‘নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাধানো।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই কমান্ডার যাদব হলো ভারতীয় সন্ত্রাসের প্রমাণ।’ করাচিতে এসএসপি আসলাম চৌধুরী হত্যা ও ২০১১ সালে মেহরানে নৌঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। ওই ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়।

বৈঠকের প্রেক্ষিতে ভারতীয় সরকারের করণীয়

এই বৈঠক ভারত সরকারের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। কারণ তারা দাবি করেছিল যে, তাকে ইরান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ড. ফয়সাল জানান, নয়াদিল্লীতে পাঠানো পত্রে তারা প্রশ্ন রেখেছেন, কিভাবে একটা আসল ভারতীয় পাসপোর্টে ভূয়া মুসলিম নাম (হুসাইন মুবারাক প্যাটেল) নিয়ে সে ইরান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ১৭ বার সফর করেছে? ২০১৫ সালে তার পাসপোর্ট নবায়নও করা হয়েছে। ২০১৭ সালের ৩ মার্চ বেলুচিস্তান থেকে গ্রেপ্তার হন কুলভুষণ।

পাকিস্তান তার নৌবাহিনীতে কর্মরত সময়ের নথি এবং তার অবসর ভাতার রেকর্ড দেখতে চেয়েছে। কারণ ভারত দাবি করেছে সে ২০০৩ সাল থেকে অবসর ভাতা পাচ্ছে।

ড. ফয়সাল বলেন, পাকিস্তানের এখানে গোপন করার কিছু নেই। তিনি বলেন, কুলভুষণের পরিবারের সদস্যরা এই সাক্ষাতের পর চাইলে পাকিস্তান, ভারত বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রেস ব্রিফিং করতে পারেন। কিন্তু এ প্রস্তাবে সম্মত হয়নি ভারত সরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ