বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

কেসিসি’র তেল চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাঘব বোয়ালরা মাঠে

খুলনা অফিস: খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃক বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেল চুরির ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রভাবশালীরা মাঠে নেমেছে। চক্রটি ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’- চাপাতে নানা ধরনের কূটকৌশল গ্রহণ করেছে। এ চক্রের অধিকাংশ সদস্য কোটিপতি।
রয়েছে আলিশান বাড়িসহ বিশাল সম্পদ। তারা বিষয়টি যে কোন উপায়ে থামাতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। চক্রটি তদন্ত টিম ও গণমাধ্যম কর্মীদের ঠেকাতে নানাভাবে চেষ্টা তদ্বিরও অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিমকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত টিম পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। তিনি ডিও স্লিপ কিভাবে গ্রহণ করা হয় এবং তা দিয়ে কি প্রক্রিয়ায় বাইরে তেল বিক্রি করা সম্ভব, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, অবৈধ প্রক্রিয়ায় তেল পাচারকালে গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ মেসার্স সিটি পেট্রোলিয়াম নামক তেল পাম্প থেকে হাতেনাতে তিনশ’ লিটার তেল (ডিজেল) ধরা পড়ে। এ সময় দু’টি ড্রামে ভ্যানভর্তি তেলসহ আটক করা হয় ‘নিউ রেইনবো ট্যুরস’ নামক ভ্রমণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের গাইড মো. হাসানুজ্জামান হেলাল ও ভ্যান চালক আলম কবিরাজকে। অবশ্য, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তেল জব্দ রেখে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ওই সময় হেলাল জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের দু’সদস্যের নাম বলে যায়। তারা হলো কঞ্জারভেন্সি শাখার সহকারী (মাস্টার রোল শ্রমিক) ওমর ফারুক এবং ২৮নং ওয়ার্ডের কনজারভেন্সী সুপারভাইজার আব্দুস সালাম (বর্তমানে পাম্প থেকে তেল সরবরাহের কাজে নিয়োজিত)।
তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কেসিসি’র আলোচিত ও বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ, সহকারী প্রকৌশলী সেলিমুল আজাদ (মাস্টাররোল শ্রমিক), ২৮নং ওয়ার্ডের কনজারভেন্সী সুপারভাইজার আব্দুস সালাম এবং কঞ্জারভেন্সি শাখার সহকারী ওমর ফারুকের যোগসাজসে কেসিসির তেল পাচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এরা প্রত্যেকই নানাভাবে বিতর্কিত, তবে প্রভাবশালী। তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে একের পর এক অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ