মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

তুরস্কের রাজধানীর রাস্তার নাম নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন আপত্তি

তুর্কী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নগরীর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ নিয়ে রেগে আগুন সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। টুইটারে এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে এরকমের ঠান্ডা যুদ্ধও শুরু হয়েছে।
একটি রাস্তার নাম বদলানো নিয়ে কেন তুরস্কের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্য আরব দেশগুলোর সম্পর্কে এত টানাপোড়েন?
আঙ্কারার যে রাস্তাটির নাম বদলের প্রস্তাব করা হচ্ছে সেই রাস্তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস। নগরীর মেয়র এই রাস্তাটির নামকরণ করতে চাইছেন ফখরুদ্দীন পাশার নামে।
ফখরুদ্দীন পাশা: তুর্কীদের কাছে জাতীয় বীর, কিন্তু আরবদের কাছে ‘লুণ্ঠনকারি’।
ফখরুদ্দীন পাশা ছিলেন অটোমান শাসনামলে সেনাবাহিনীর একজন বিখ্যাত অধিনায়ক।
১৯১৬ সাল থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন পবিত্র মদিনা নগরীর গভর্ণর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পক্ষে তিনি আরব এবং ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তার সাহসিকতার জন্য তাকে ‘দ্য লায়ন অব দ্য ডেজার্ট’ বা মরুভূমির সিংহ বলে বর্ণনা করা হতো।
কিন্তু আরবরা অভিযোগ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী মদিনা থেকে অনেক মূল্যবান দলিলপত্র এবং অর্থ লুট করে। কাজেই ফখরুদ্দীন পাশার নামে আঙ্কারার যে রাস্তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস, সেই রাস্তার নামকরণ নিয়ে দেশটির অস্বস্তি রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মদিনার গভর্নর ছিলেন ফখরুদ্দীন পাশা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গত সপ্তাহে একটি টুইট শেয়ার করেছেন যেটিতে অভিযোগ করা হচ্ছে ফখরুদ্দীন পাশার নেতৃত্বাধীন বাহিনী মদিনায় লুটপাট চালিয়েছিল।
তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এই মন্ত্রীর নাম না নিয়ে বলেছেন, এরা ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ। শুধু তাই নয়, আঙ্কারায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিককে এই ইস্যুতে তলবও করেছে তুরস্ক।
তবে এই বিতর্কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার আর কোন মন্তব্য করেনি।
কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ তাদের প্রভাব বলয়ের দেশগুলোর বিরোধ শুরু হওয়ার পর তুরস্ক কাতারের পক্ষ নিয়েছিল। তার পর থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের জোটের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ