শুক্রবার ০৭ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্পন্ন পাঠ্যবই খুবই অপ্রতুল

 

গাজীপুর সংবাদদাতা : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে তাদের জন্য টেক্সবুক বা মানসম্পন্ন পাঠ্য বই খুবই অপ্রতুল। সেজন্য শিক্ষার্থীরা নোট বই, বাংলাবাজার থেকে প্রকাশিত যে বইগুলো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে লেখা হয়ে থাকে সেই বইগুলোই তারা পড়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান আহরনের করার জন্য প্রয়োজন ভাল বা মানসম্পন্ন বই। সে দিকে লক্ষ্য রেখে আমরা মানসম্পন্ন পাঠ্যবই রচনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। শুরুতে ১২টি বিষয়ে একাধিক কোর্সে এসব পাঠ্যবই রচনা করা হবে। আমাদের দেশের যারা শিক্ষক, লেখক ও বুদ্ধিজীবি রয়েছেন, তারা এসব পুস্তক রচনা কাজে নিয়োজিত হবেন। ইতোমধ্যে এ কাজটি আমরা শুরু করে দিয়েছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিনেট অধিবেশনের সাংবাদিকদের দেয়া সাক্ষাৎকারের সময় তিনি ওইসব কথা বলেন।

শনিবার সকালে গাজীপুরস্থ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিনেট হলে বিশেষ সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে সিনেট হলে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো আনোয়ার হোসেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডএম অহিদুজ্জামান, সাবেক খাদ্য মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো মোতাহার হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার ও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড হারুন-অর-রশিদ আরো বলেন, এবার সিনেটে বেসরকারি কলেজগুলো থেকে মডেল কলেজ বাছাই কারার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসব কলেজগুলো থেকে ইতোমধ্যে আবেদনপত্র আহ্বান করেছি। সারাদেশ থেকে ৯০টি কলেজ মডেল কলেজ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আবেদন করেছে। এসব কলেজ থেকে অঞ্চল ভিত্তিতে আমরা শুরুতে কয়েকটি কলেজকে বেছে নেব। এসব কলেজগুলোতে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো, ক্লাসরুম, ল্যাব- লাইব্রেরী, কম্পিউটার সবগুলোকে ঢেলে সাজাইতে চাই। সেক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও সহযোগিতা করবে, প্রয়োজনে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে। ওইসব কলেজে যারা মেধাবী শিক্ষার্থী তারা ব্যয় ছাড়াই যেন শিক্ষা লাভ করতে পারে অর্থাৎ তাদের ইনসেন্টিভ দেয়ার চিন্তা করেছি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজও তাদের অর্থের কিছু অংশ ব্যয় করবে।

ভিসি বলেন, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এসব আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তিনটি স্থায়ী আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ১১৯ কেটি ৫লাখ টাকা একনেকে পাস করেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। সংখ্যার বিচারে অনেক দূর আমরা অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু শিক্ষার মান তেমন বাড়েনি। এজন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সিনেট সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানের শিক্ষা পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেন, পাঠ্যসূচী থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল কিংবা সর্বোচ্চ ১০নম্বর করার পরামর্শ দেন।

সিনেট সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বলেন, দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। তিনিও এমসিকিউ পদ্ধতি বাতিল করার আহ্বান জানান।

অধিবেশনে মোট ৪৮ জন সিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সিনেটে বিশবিদ্যালয়ের চাকরি সংবিধির কতিপয় ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সিনেটের অধিবেশনে বর্তমান সময় পর্যন্ত গত ৬ মাসে বিশবিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ