বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাচন বাতিল ভোট গণনাকালে হামলা-ভাংচুর

 

খুলনা অফিস: খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্যদের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রিজাইডিং অফিসার বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশিষ চৌধুরী বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দান, অনধিকার প্রবেশ ও ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা প্রায় একশ’ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। একই ঘটনায় খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান বাদী হয়ে অপর একটি অভিযোগ করলে সেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়েছে।  

এদিকে খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আমিন উল আহসান বলেছেন, আমরা দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। 

গত মঙ্গলবার খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের প্রশাসনিক ভবনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্যদের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এবং সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দু’টি প্যানেলের ২০ জন করে মোট ৪০ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ১৪৫ জনের মধ্যে ১৮৮৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাত ১০টা নাগাদ প্রায় ৬০ ভাগ ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সাইফুল ইসলামের প্যানেল এগিয়ে ছিল। হঠাৎ করেই ৫০/৬০ জনের মতো দুর্বৃত্ত হাতে রাম-দা, হকিস্টিক, আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভোটের ব্যালট গণনা স্থলে অতর্কিত হামলা চালায়। নির্বাচনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা দিক বিদিক ছোটাছুটি করে আত্মগোপন করেন। কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট, প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিং অফিসারসহ সকলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওই ভবনের ২য় তলায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিরাপদে আশ্রয় নেন। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তা-ব চালিয়ে দুর্বৃত্তরা চলে যায়। এতে পুলিশসহ ১০/১৫জন আহত হয়। এখানে বোমা ও গুলীর শব্দ পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। নির্বাচনের প্রধান দুই প্রার্থীর দু’জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বড় নেতা হওয়ায় সংঘর্ষের সময় প্রশাসন অনেকটা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া বলেন, আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। মুখোশ পরা সন্ত্রাসীরা হাতে অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে তা-ব চালিয়েছে। আমাদের এতো দিনের আশার ফল নতুন স্টেডিয়াম ভবন উদ্বোধনের আগেই এমন ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনায় নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশিষ চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সরকারি কাজে বাধা দান, অনধিকার প্রবেশ ও ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত প্রায় একশ’ জনকে আসামী করা হয়েছে। একই ঘটনায় খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান বাদী হয়ে অপর একটি অভিযোগ করলে সেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়েছে।  

নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) মো. নুর-ই-আলম জানান, ব্যালটগুলো জেলা প্রশাসনের হেফাজতে রক্ষিত রয়েছে। হামলাকারীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রশাসনিক ভবনে ভাংচুর চালিয়েছে, তবে কোন ব্যালট ছিনতাই হয়নি। হামলার পূর্বে প্রায় ৫৫-৬০ ভাগ ব্যালট গণনা শেষ হয়েছিল। 

খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আমিন উল আহসান বলেন, নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শিশু ফাউন্ডেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা দোষীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষীদের  শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে। তিনি বলেন, একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আশা করা যায় না। আমাদের শুভ বুদ্ধির অভাব রয়েছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিভাগীয় কমিশনার খুলনায় আসলে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

বোবা কান্না ক্রীড়ামোদীদের: গুলী ও বোমা বর্ষণ, দফায় দফায় সংঘর্ষ, সীমাহীন তা-বে ল- ভ- নবনির্মিত খুলনা জেলা স্টেডিয়াম। কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লেগে আছে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের এমন অবস্থা শুধু খেলোয়াড়-ক্রীড়ামোদীর কাছে নয়, গোটা খুলনাবাসীর কাছেই মর্মান্তিক। যা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে সবারই। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘৃণা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সবাই।

খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভা বুধবার বিকেলে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাকক্ষে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এসএম মোর্ত্তজা রশিদী দারার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোতালেব মিয়া, যুগ্ম-সম্পাদক শেখ হেমায়েত উল্লাহ, জিএম রেজাউল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ হাসান জহীর মুকুল, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোমতাজ আহম্মেদ (তুহিন), মোল্লা খায়রুল ইসলাম, মো. সুজন আহম্মেদ, শরীফ মো. বদরুজ্জামান (মামুন), নাজমুস সাদাত সুমন, এস, এম, ইনামুল কবির, কনক রহমান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিরু, ফয়সাল আহম্মেদ পপা, এস, ওয়াহিদুর রহমান (বাবু), শাহনাজ ফাতেমা আজাদ মৌরী, পারভীন রহমান। 

সভায় গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ভবনে খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক গোটা স্টেডিয়াম ভবনের সম্পদ ভাংচুর ও যে তা-বলীলা চালিয়েছে তার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সভায় ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সময় খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে অযাচিতদের দুর্ব্যবহার ও আহত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

এদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির সম্পাদকমন্ডলীর এক জরুরি সভা নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, রেহানা আক্তার, স ম আব্দুর রহমান, ফখরুল আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ