বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

খুলনা আবারো পলিথিনে সয়লাব!

খুলনা অফিস: খুলনা জেলা ও মহানগরীতে উদ্বেগজনকহারে পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে। বিভিন্ন শপিং মল, কাঁচা বাজার, মুদি বাজার, হোটেল রেস্টুরেন্টসহ সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের আধিপত্য। নগরীর রাস্তাঘাট, ড্রেন এবং জলাশয়ে ব্যবহৃত পলিথিনে স্তূপই জানান দিচ্ছে খুলনার পরিবেশ কতটা হুমকিতে রয়েছে। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। 

বছরের হাতে গোনা দু’চারটি অভিযানের মাধ্যমে তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের নিয়মিত বাজার অভিযান না হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হয়ে গেছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

সূত্র মতে, ১৯৩৩ সালে এই পলিমার পণ্য আবিষ্কৃত হলেও ১৯৫৮ সাল থেকে ভোক্তার ক্রয়সীমানা দখল করে নেয়। পরিবেশ অধিদফতরের সূত্র মতে, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন বাজারজাত ও ব্যবহার শুরু। পলিথিন গলে না, মেশে না, পচে না। ৫০০ থেকে হাজার বছরে এটি আবারো প্রকৃতিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬ (ক) (সংশোধিত ২০০২) ধারা অনুযায়ী, ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা শহরে এবং একই সালের ১ মার্চ বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। পলিথিন নিষিদ্ধকরণ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেকোনো প্রকার পলিথিন ব্যাগ অর্থাৎ পলিথাইলিন, পলিপ্রপাইলিন বা উহার কোনো যৌগ বা মিশ্রণের তৈরি কোনো ব্যাগ, ঠোঙা বা যেকোনো ধারক যাহা কোনো সামগ্রী ক্রয়বিক্রয় বা কোনো কিছু রাখার কাজে বা বহনের কাজে ব্যবহার করা যায়, উহাদের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার দেশে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হইল।’ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০০২) এর ১৫ (১) অনুচ্ছেদের ৪ (ক) ধারায় পলিথিন উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতের জন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাসের কারাদ-ের বিধান আছে। আইন অনুযায়ী ১০০ মাইক্রোনের কম পুরুত্বের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীর জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বাজারজাত করলে ছয় মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা।

নগরীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পলিথিনের অবাধ ব্যবহার। মাছ, কাঁচা বাজার, ফল ফলাদি ও মুদির দোকানে দেদারছে চলছে পলিথিনের ব্যবহার। এ সময় দোকানীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমাদের কাছে সেলসম্যানরা এসে পলিথিন দিয়ে যায়। তাছাড়া খুলনায় বড় বাজারসহ দৌলতপুর-খালিশপুর এলাকায় পলিথিনের বেশ কয়েকটি বড় মোকাম রয়েছে বলেও জানান। ক্রেতারা জানান, বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে পলিথিন ব্যবহার কেন করবো। 

সরকার যেখানে আইন করেছে সেই আইনের প্রয়োগকারী সংস্থা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।   

নগরীতে কয়েক দিন ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের পৃথক দু’টি অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে অধিদপ্তরের এ সকল অভিযান ও আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। গত ১৭ ডিসেম্বর নগরীর ফুলবাড়ীগেট বাজারে অভিযান চালিয়ে আড়াই টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দসহ দু’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন এ জরিমানা করেন। এছাড়া গত ১০ ডিসেম্বর নগরীর বড় বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধারের প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ দু’জনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ