বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

গাজীপুরে গজারী বন থেকে শিয়াল কুকুরে খাওয়া গার্মেন্টস কর্মীর কংকাল উদ্ধার

 

গাজীপুর সংবাদদাতা: গাজীপুরে মুক্তিপণের দাবীতে অপহরণের ২৪দিন পর গজারী বন থেকে শিয়াল কুকুরে খাওয়া এক গার্মেন্টস কর্মীর কংকাল সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তার এক সহকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নিহতের নাম সজীব (২৪)। সে ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ভিতপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। 

জয়দেবপুর থানা পুলিশের এসআই মো. সাদেকুজ্জামান ভূঁইয়া ও নিহতের স্বজনরা জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় এনএজেড নামের এক পোশাক কারখানায় চাকরি করতো সজীব। সে গত ২৪ নবেম্বর সন্ধ্যায় কারখানা থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। তার সন্ধান না পেয়ে গত ২৮ নবেম্বর তার চাচাতো ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে। গত ১৩ ডিসেম্বর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সজীবের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে সজীবকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। সজীবের স্বজনরা মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও নিখোঁজ সজীবের সন্ধান মিলেনি। এদিকে পুলিশ মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও ট্র্যাকিং করে সোমবার সকালে রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে সজীবের সহকর্মী রাজেন্দ্রপুর জানাকুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে ইজাদুর রহমানকে (২৪) গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইজাদুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে পুলিশকে জানায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে ইজাদুর অপর সহকর্মী আমিনুর রহমানের সহযোগিতায় বাসায় ফেরার পথে সজীবকে কৌশলে অপহরণ করে রাজেন্দ্রপুরের দরানচালা এলাকার গজারী বনে নিয়ে যায়। ঘটনার রাতেই তারা সেখানে ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সজীব মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় ইজাদুর ও আমিনুর ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে সজীবের মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গ্রেফতারকৃত ইজাদুরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় দরানচালা এলাকার গজারী বনে তল্লাশি চালিয়ে নিহত সজীবের কংকাল ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে। বনে শিয়াল কুকুরে নিহতের শরীরের প্রায় সবটুকু মাংস খেয়ে ফেলার কারনে তার কংকাল ঘটনাস্থলে পড়েছিল। 

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, উদ্ধারকৃত কংকাল ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজ উদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমিনুর পলাতক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নারী ঘটিত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ