বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপে অবৈধভাবে ১৯ করাতকল গড়ে উঠেছে

খুলনা অফিস: সুন্দরবনের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় লাইসেন্স বিহীন খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে করাত কল বা ‘স’ মিল। এসব করাত কলে দেদারচ্ছে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা বিভিন্ন প্রকারের নিষিদ্ধ গাছ চেরাই চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে ১৯টি করাত কল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দুইটি করাত কলের লাইসেন্স রয়েছে। 

নীতিমালায় সংরতি সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার মধ্যে করাত কল স্থাপন সম্পর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র ছায়ায় লাইসেন্সবিহীন গড়ে ওঠা এসব অবৈধ করাত কলে দিবা রাতে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা কর্তন নিষিদ্ধ সুন্দরীসহ নানা প্রকারের কাঠ চেরাইয়ের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের বনজ সম্পদ। এসব অবৈধ করাত কলের মালিকরা বনবিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা রেখে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে দীর্ঘদিন যাবৎ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অনেক দিন পর পর প্রশাসন এসব করাত কলের দুই একটিতে লোক দেখানো নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করলেও কখনো সম্পূর্ণ বন্দ হতে দেখা যায়নি। 

এদিকে পশ্চিম বনবিভাগ এসব অবৈধ করাত কল ৩০ দিনের মধ্যে অন্যত্র সরিয়ে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার বাইরে স্থাপন পূর্বক সরকার প্রদত্ত লাইসেন্স নিয়ে সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য গত ২২ মে মালিকদের নোটিশ দিলেও তার তোয়াক্কা না করে বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ‘র খুলনা রেঞ্জের সুতারখালী স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রাপ্ত পত্রের পরিপেক্ষিতে অবৈধ ভাবে স্থাপিত এসব করাত কল সরিয়ে বনের ১০ কিলোমিটার বাইরে স্থাপন পূর্বক সরকারি লাইসেন্স নিয়ে পরিচালনার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন যে সময় দেয়া হয়েছিল তা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন কাগজ পত্রের প্রসেসিং চলছে কয়েক দিনের মধ্যে আর একবার চেকিং দিয়ে মামলা দেয়া হবে। 

দকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম বলেন;  করাত কলের লাইসেন্স‘র জন্য জোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের বনবিভাগ জানুয়ারী থেকে প্রত্যেকটা করাত কলে যাবে লাইসেন্স না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। তাছাড়া বাজুয়ার চড়ার বাঁধে যে কয়টা কল আছে প্রত্যেকটিকে নোটিশ দিয়েছি ওদের লাইসেন্স থাকলেও বন্দ করে দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ