সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাড়াশে পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের পথে

 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জ সলংগা ও তাড়াশের পাল্ট্রি শিল্প মালিকদের ধারনা ছিল যে, ক্ষুদ্র- মাঝারি-বৃহৎ শিল্পের তথা সম্মিলিত মুরগির ডিলার ও খামারিদের উদ্যোগেই  দেশের শিক্ষিত বেকারোত্তর উন্নতি করা সম্ভব বলে মনে করেছিলেন তারা। কিন্তু তা না হয়ে সলংগা ও তাড়াশের পোল্ট্রি শিল্প দিনের পর দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে।  ফলে এ শিল্পের ে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট  পোল্ট্রি খামারিরা।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪/৫ বছর আগে সিরাজগঞ্জ সলংগা ও  তাড়াশ থানার বেশ কয়েকটা ইউনিয়নে কয়েক হাজার পোল্ট্রি খামার  গড়ে উঠেছে। ওই এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশাপাশি কিছু  কর্মঠ উদ্যমী যুবক ওই  সকল খামারী গুলি গড়ে তোলেন।  ভুক্তভোগী খামারিরা জানান, শুরুর দিকে মুরগির বাচ্চার দাম  এবং মুরগির খাবারসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেশ কম ছিল। পাশাপাশি ওই সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পোল্ট্রি খামারিদের ঋণ সুবিধা দেয়াসহ নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতো। তাছাড়া ওই সময় বাজারে মুরগির, ডিম এবং বড় মুরগির দামও বেশ ভালো ছিল। ফলে তখন খামারিরা বেশ আগ্রহের সাথে বিভিন্ন এনজিওদের কাছ থেকে চওড়া সুদে ঋণ নিয়ে পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেন তারা । কিন্তু বর্তমানে মুরগির খাবার এবং মুরগির বাচ্চার দামসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাজারে সেই হিসাবে মরগির বাচ্চা, ডিম এবং বড় মুরগির দাম বৃদ্ধি পায়নি। তাছাড়া সরকারি ঋণ সুবিধা  না থাকায় দিনের পর দিন এ জনপদের মানুষ পোল্ট্রি শিল্পের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী পোল্ট্রি খামারি আঃ কুদ্দুস জানান আগে প্রতি বস্তা পোল্ট্রি ফিডস'র দাম ছিল ১৫থেকে ১৬শ টাকা। কিন্তু  বর্তমানে সেই একই ফিডস কিনতে হচ্ছে প্রতি বস্তা ২২ থেকে ২৩শ’ টাকায়। তাছাড়া ওই সময় ৫/৬শ ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা বিক্রির উপযোগী করতে ৫০থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে খরচ হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। ফলে এ অবস্থায় দিনের পর দিন সলংগা ও তাড়াশ থানার পোল্ট্রি খামার বন্ধ হতে চলেছে। ইতিমধ্যে সলংগায় আমশড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে শত শত ব্রয়লার ও লিয়ার মুরগির খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এখুন শুধু মুরগির ঘর গুলিতে ধান ও খড়কুটায় ভরা।  

এতে ওই সকল খামার মালিক এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বিভিন্ন এনজিওদের ঋণ  ও মুরগির ডিলারদের ঋণের বোঝা এবং বেকারত্বে অভিশাপ মাথায় নিয়ে মানেবতর জীবন যাপন করছেন। মুরগির খামারি এছিন জানান, এ যাবৎ ৩০ সেট মুরগি লালন পালন করে আমার কোন লাভ হয়নি। বরংছো ২ লক্ষ টাকা আমি ডিলারদের কাছে ধরা সামান্য গরীব মানষ হয়ে এতটাকা দিব কি ভাবে।  মুরগি ব্যাবসায়ী আঃ মমিন জানান, আমরা মুরগি ডিলারের কাছে ধরা। আর ডিলারেরা খামারিদের কাছে ধরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ