বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

কালিয়াকৈরের কসমেটিক্স কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দগ্ধ সর্বশেষ শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কসমেটিক্স তৈরীর কারখানায় কেমিক্যালের সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সর্বশেষ ব্যক্তিটিও ঘটনার ৮দিন পর বুধবার মারা গেছে। তার নাম ইমরান হোসেন (৩০)। সে কুড়িগ্রাম সদর থানার আরাজি পলাশ বাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর কালিয়াকৈরের জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকা-ের ওই ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ পাঁচ জনের সবাই পর্যায়ক্রমে মারা গেছে। ওই ঘটনায় হতাহতদের সবাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানার কর্মী। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ইমরান সোমবার ভোরে মারা গেছেন। এ নিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ পাঁচ জনের সবার মৃত্যু হয়েছে। 

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন ও কালিয়াকৈর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার জামালপুর এলাকায় এফএস কসমেটিক্স লিমিটেড কারখানায় পারফিউম, বডি স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার, এ্যারোসল, মেহেদী, সেভিং ফোম, সেভিং ক্রীম, ফেস ওয়াশ, হেয়ার কালার ও ক্রীমসহ বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী তৈরি করা হয়। এসব সামগ্রী তৈরীতে বিভিন্ন প্রকার ক্যামিকেল ব্যবহৃত হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে কারখানায় উৎপাদন কাজ চলাকালে ক্যামিকেল মিশ্রণের সময় সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন) গ্যাসের একটি সিলিন্ডার হঠাৎ বিষ্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন কারখানায় থাকা অন্যান্য ক্যামিকেলে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে আরো কয়েকটি সিলিন্ডারের বিষ্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানার ম্যানেজার জাকির হোসেন (৩৮), শ্রমিক শেফালী আক্তার (৩০), আব্দুর রহিম (৩০) ও তার স্ত্রী নাজনীন (২৬), ইসমত আরা (৩০), শিল্পী রাণী (২৮), লিটন মিয়া (৩৫) ও সুমন মিয়াসহ (৩০) অন্ততঃ ১১ জন দগ্ধ হয়। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দগ্ধদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রেরণ করে এবং আগুন নেভায়। দগ্ধদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় তিন নারী ও দুই পুরুষ শ্রমিকসহ ৫জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পরদিন শেফালী (৩০), গত রবিবার আব্দুর রহিম (৩২) এবং সোমবার ইসমত আরা (৩০) ও একই ঘটনায় নিহত আব্দুর রহিমের স্ত্রী নাজনীন বেগম(২৬) ও মারা যায়। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সর্বশেষ শ্রমিক ইমরানও বুধবার মারা গেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন কাফনের জন্য তাদের পরিবারকে বিশ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ৫ জনের সবারর মৃত্যু হয়েছে। কারখানায় অগ্নিকান্ড ও হতাহতের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো তদন্ত কাজ চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেমিক্যাল মিশ্রণের সময় রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকা-ের ওই ঘটনা ঘটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ