মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের  সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

 

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ ॥ তৃতীয় পর্ব ॥ : নাইম বিন হাম্মাদ এর উদ্ধৃতিতে রুহমী রাজা কর্তৃক খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজকে (৭১৭-৭২০ খ্রি.) চিঠি প্রেরণের তথ্য পাওয়া যায়। সে চিঠিতে বলা হয়েছে রুহমী শাহেন শাহের পক্ষ থেকে যিনি হাজার বাদশাহর অধস্তন পুরুষ, যার স্ত্রীও হাজার বাদশাহের অধ:স্তন কন্যা এবং যার হাতিশালায় সহস্র হাতি ও যার রাজ্যে দুটি নহর রয়েছে সেগুলোতে উদ উৎপন্ন হয়। এছাড়া কর্পুর, করমচা ও বাদাম গাছও রয়েছে এবং যার প্রতিপত্তি ১২ শত মাইল দূর থেকেও পাওয়া যায়। এর পক্ষ থেকে আরবের বাদশাহ যিনি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেন না তার প্রতি। অতঃপর আমি আপনার নিকট কিছু হাদিয়া প্রেরণ করছি। বস্তুত এটি হাদিয়া নয় বরং কৃতজ্ঞতা। আমি আশা করি আপনি আমার নিকট এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি ইসলাম বুঝাবেন ও শুনাবেন। আস সালাম। অনুরূপভাবে রুহমীর বাদশাহ কর্তৃক বাগদাদের খলিফা আবু আবদুল্লাহ আল মামুনের নিকট লিখিত চিঠি ও খলিফা মামুন কর্তৃক তার প্রতিউত্তরের বিবরণও পাওয়া যায়। এসব বিবরণের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহানবি (স.) এর নবুয়তের পূর্ব থেকেই আরাকানের সাথে আরব বণিকদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল এবং সেই সুবাদেই মহানবির (স.) জীবদ্দশাতেই এ অঞ্চলে ইসলামের সুমহান আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে।

আরাকানের চন্দ্র-সূর্য বংশের প্রথম রাজা মহৎ ইঙ্গ চন্দ্র (৭৮৮-৮১০ খ্রি.) ৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে বৈশালীতে রাজধানী স্থাপন করে শাসনকার্য পরিচালনা শুরু করেন। তার উদারনীতির কারণে মুসলমানরা ইসলাম প্রচারের ব্যাপক সুযোগ পায় এবং সে সূত্রেই আরব মুসলিম বণিকগণ রাহাম্বী বন্দরসহ আরাকানের নৌবন্দরসমূহে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ও ইসলাম প্রচার মিশন পরিচালনা করতে থাকে। এ রাজার শাসনামলেই কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্যবহর রামব্রী দ্বীপের পাশে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা রহম বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে রাজার কাছে নিয়ে যায়। রাজা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দান করেন।  আরব বণিকগণ কেউই স্ত্রী-পুত্রসমেত সপরিবারে বাণিজ্য করতে আসেননি। তারা স্থানীয়ভাবে হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মহিলাদেরকে বিয়ে করে। ফলে মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এভাবে অষ্টম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত আরাকানের উপকূলীয় অঞ্চল হতে শুরু করে মেঘনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী বিস্তীর্ণ বন্দরসমূহে আরব বণিকদের কর্মতৎপরতায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এমনকি মুসলমানদের সুমহান আদর্শের প্রতিও শাসকগণ মনস্তাত্বিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ার নিদর্শন পাওয়া যায়। কেননা দ্বিতীয় উমার নামে খ্যাত উমাইয়া খলিফা উমার বিন আবদুল আজিজ (৭১৭-৭২০ খ্রি.) এবং আব্বাসীয় খলিফা মামুনকে (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.) রুহমীর রাজা পত্র লিখেছিল। যদি রুহমী বলতে আরাকান বুঝানো হয়ে থাকে তবে তখন আরাকানে শাসক যথাক্রমে রাজা সূর্যক্ষিতি (৭১৪-৭২৩ খ্রি.) এবং সূর্য ইঙ্গ চন্দ্র (৮১০-৮৩০ খ্রি.) কর্তৃক এ পত্রগুলো লেখা হয়েছিল। তাঁদের পত্রের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি ভালবাসা ও মুসলমানদের প্রতি নমনীয়তার প্রমাণ মেলে।

দশম ও একাদশ শতাব্দীতে আরব বণিক ও সুফি দরবেশদের মধ্যে বদরুদ্দিন (বদর শাহ) নামে ইসলাম প্রচারক এ অঞ্চলে আসেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তার নামানুসারে আসামের সীমা থেকে শুরু করে মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ‘বদর মোকাম’ নামে মসজিদও নির্মিত হয়েছে। অদ্যাবধি মাঝি মাল্লা ও নাবিকরা বদরকে মাঝি মাল্লার রক্ষাকর্তা বা দরিয়াপির বলে স্মরণ করে থাকে। এভাবে চট্টগ্রাম এবং আরাকানে আগত ও বসতি স্থাপনকারী আরব বণিক সম্প্রদায়, নাবিক, সূফি, দরবেশ শ্রেণী এবং ত্রয়োদশ শতকের পর থেকে তুর্কী, পাঠান ও মোগলদের শাসনামলে বাংলা থেকে আগত মুসলমানদের সাথে এ অঞ্চলের (চট্টগ্রাম-আরাকান) নি¤œবর্ণের হিন্দু ও বৌদ্ধদের সংমিশ্রণ ঘটে এবং তারা ব্যাপকহারে ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করে। সেইসাথে চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল বাংলা, আরাকান, ত্রিপুরা ও বার্মার লক্ষ্যস্থল এবং আরাকান রাজ্যের অধীনে চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন শাসিত হবার ফলে চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠী, নবদীক্ষিত মুসলমান, বহিরাগত ইসলাম প্রচারক-বণিক, সুফি-দরবেশ, উলামা সম্প্রদায় অবাধে আরাকানে ইসলাম প্রচারের জন্য যাতায়াত করতেন। ফলে চট্টগ্রামের মতো আরাকানেও একটি ইসলামি পরিবেশ সম্বলিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। পর্দা প্রথা, খাদ্যাভ্যাস, রান্না পদ্ধতি, এমনকি মানবীয় আচরণেও ইসলামের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। পরবর্তীতে বরেণ্য পীরদরবেশগণের মধ্যে চকপিউ এর মুন্সী আবদুন নবী, আকিয়াবের শাহ মোনায়েম (বাবাজী), হায়দার আলী শাহ (কাহারু শাহ), নূরুল্লাহ শাহ (কৈলা শাহ), আজল উদ্দীন শাহ (আজলা শাহ) এবং সিরিয়মের পাঁচপীর ও কাইয়েমর সরদার পাড়ার সৈয়দ ভ্রাতৃদ্বয়সহ অনেকের নাম উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দীন বদরে আলম যাহিদী নামক একজন অলী তিন/চারশত অনুগামী  ইসলাম প্রচারক নিয়ে ভারতের মিরাঠাবাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তিনি ১৩৮০ খ্রিস্টাব্দে বিহারে চলে যান এবং ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তারা নানারূপ বিকৃত বৌদ্ধ-হিন্দুয়ানী আচরণ ও প্রথা রহিত করে মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সত্যিকারের ইসলামি মুল্যবোধের আলোকে গড়ে তোলার জন্য আমরণ চেষ্টা করেছেন। এভাবে আরাকানের সামাজিক অবকাঠামোগত ভিত্তিতে ইসলামের সম্পৃক্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। 

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খ্রিস্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকেই আরাকানে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত ভাবে সংঘবদ্ধ সমাজ জীবনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অস্ট্রো-এশীয় এবং ভোট-চীনা গোত্রীয় মানুষই আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের খ্রিস্টপূর্ব যুগের আদিবাসী বলে অনুমান করা হয়। মারু বংশীয় রাজাগণ বংশ পরম্পরায় তখন আরাকান শাসন করত। অযোধ্যা ও বিহার অঞ্চলের জৈন এবং পরবর্তীতে জড়বাদী হিন্দু কর্তৃক প্রভাবিত ছিল তৎকালীন আরাকানের সমাজ ব্যবস্থা। ক্রমশ এতে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু প্রভাব আরো বৃদ্ধি পায়, এমনকি ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকেরা আরাকানের শাসন ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে মগধ থেকে আগত চন্দ্র-সূর্য বংশের রাজাদের প্রভাবে আরাকানে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বিস্তৃত হয়। এভাবে পুরোপুরিভাবে ভারতীয়কৃত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আরাকানের বিভিন্ন স্থানের নাম ভারতীয় অনুকরণে আমরাপুর, রামাবতী, ধন্যাবতী, বৈশালী, হংসবতী প্রভৃতি নামকরণ হয়। রাজবংশের নামও ছিল ভারতীয় অনুকরণে মারু, কানরাজগজি, চন্দ্র-সূর্যবংশ, পিনসা প্রভৃতি এবং আরাকানে রাজাদের নামও রাখা হতো ভারতীয় প্রথা অনুসারে। সেখানে ভারতীয় বর্ণমালা ব্রাহ্মীলিপিতে সংস্কৃত ভাষায় উৎকীর্ণ শিলালিপি ও শিবাদি দেবতার প্রতিষ্ঠা ছিল এবং মুদ্রায় বৃষমূর্তি, ধ্বজ, লাঞ্ছন প্রভৃতি অংকিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব থেকে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আরাকান একটি অখ- রাজ্য হিসেবে চন্দ্রসূর্য রাজাগণ কর্তৃক শাসিত হলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সমাজ গড়ে ওঠে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মবিশ্বাসের আলোকে এবং আরাকানী সমাজ গড়ে ওঠে বৌদ্ধ ধর্মীয় চেতনার আলোকে।

প্রাচীন চট্টগ্রাম ও আরাকানের হিন্দু সম্প্রদায় মূলত ভারতবর্ষের হিন্দু জাতিরই অংশ। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য, শূদ্র এই চার প্রধান বর্ণ ও ছত্রিশ জাত নিয়ে এখানকার হিন্দু সম্প্রদায় গঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত অর্থে ৪১টি উপবর্ণের সমন্বয়ে তা গঠিত ছিল। প্রাচীনকালে গোত্রগত পেশার ভিত্তিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেণীবিন্যাস হয়েছিল। পূর্বে উল্লেখিত খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যভাগে আর্যবংশীয় হিন্দুদের সাথে স্থানীয় আদিম জনগোষ্ঠীর বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নি¤œবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়।

তৎকালীন সময়ে আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের হিন্দু সমাজে কৌলিন্য প্রথা প্রবল ছিল। বিয়ে-শাদী-নৃত্য প্রভৃতি অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণে সামাজিক সিঁড়ি প্রথা প্রচলিত ছিল এবং তা কড়াকড়িভাবে পালন করা হতো। সামাজিক বৈঠকে কৌলিন্যের মান অনুযায়ী বংশের প্রধান ব্যক্তিরা সিঁড়ি বা লাইনের প্রথম স্থানে বসত। এরপর কৌলিন্যের মান অনুযায়ী সবাই পরপর লাইনে বসত। তাদের মধ্যে ছুৎবাই ছিল খুব বেশী। কুলীনরা অকুলীন বাড়িতে নিমন্ত্রণ গ্রহণই করতনা, যদিওবা বিশেষ কোন কারণে দাওয়াত নিতো তবে সেখানে যাবার সময় পারিবারিক গোলাম বা দাস দ্বারা নিজেদের থালাবাটি সঙ্গে নিয়ে যেত।

আরাকানের শাসকগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হলেও সাধারণ জনগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিল। বিশেষত হিন্দুদের বর্ণ প্রথার কারণে ভারতের নি¤œবর্ণের হিন্দুরা ত্রিপুরা হয়ে আরাকানে এসে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হয়ে যেত। ক্রমশ আরাকানের শাসকগণও সামাজিক পরিবেশের আলোকে নিজেদেরকে বৌদ্ধ মতাবলম্বী হিসেবে প্রকাশ করতে থাকে। বিশেষকরে আরাকান রাজা ছান্দা থুরিয়া আরাকানের সমাজে বৌদ্ধ প্রভাবের বিস্তার ঘটান। এভাবে ইসলাম আগমণের পূর্ব পর্যন্ত আরাকানী সমাজে বৌদ্ধ ধর্মের প্রায় একচেটিয়া প্রভাব প্রতিষ্ঠিত ছিল।

আরাকানের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মুসলমান

জড়োপসনা ও বস্তুবাদকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন আরাকানী সমাজ। পরবর্তীকালে আরবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শতাব্দীতে আরব, ইরানী, গৌড়ীয় ও ভারতীয়সহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিম বণিক, নাবিক, ইসলাম প্রচারক, পরিব্রাজক প্রমুখ আরাকানে এসে এখানকার স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হত। তাদের ঔরস ও গর্ভজাত আরাকানী মুসলমানগণের মধ্যে বর্ণসংকর জাতির সৃষ্টি হয়। আকার আকৃতির দিক থেকেও তাদের মধ্যে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়; যেমন কেউ বেটে, খাটো, কেউ মধ্যম আকৃতির, লম্বাটে, নাক চেপ্টা, চক্ষু আয়ত ও ক্ষুদ্র ও দাড়ি বিহীন, চুল তামাটে এবং সজারু কাটার মত খাড়া আবার কেউবা আরব ও ইরানীদের মত সুঠাম দেহের অধিকারী। বিবাহের সময় ভিনদেশী কোন কোন মুসলমান প্রস্তাবিত মহিলাকে আগে ইসলামে দীক্ষা দিত, আর কেউবা ইসলামে দীক্ষিত না করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হত। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে ঈমানিয়াত বা বোধ-বিশ্বাস ও রুচির ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়। এ বিশ্বাস ও রুচিবোধের ভিন্নতার কারণে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন রীতিপ্রথা ও কুসংস্কার প্রবেশ করে এবং সে প্রেক্ষিতে আরাকানী মুসলমানদের মধ্যে গোত্রগত শ্রেণিবিভাজন শুরু হয়, যেমন থাম্ভইক্যা, জেরবাদী, কামানচি, এবং রোহিঙ্গা। 

থাম্ভইক্যা

থাম্ভইক্যা বা থাম্ভুকেয়া আরাকানী শব্দ। এর অর্থ জাহাজ ডুবি থেকে রক্ষা প্রাপ্ত। এ শাব্দিক অর্থ থেকে অনুমান করা হয় যে, দুর্ঘটনাবশত জাহাজ ডুবে যাবার পর যে সকল মুসলমান প্রাণে রক্ষা পেয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারাই থাম্ভইক্যা নামে পরিচিত। আরাকান অঞ্চলে আরব বণিকদের বাণিজ্যিক কর্মকা- পরিচালনার কথা যেহেতু প্রমাণিত বিষয়, সেহেতু থাম্ভইক্যা শব্দের অর্থগত দিক বিবেচনা করে অনেকে এ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আরাকানের প্রাচীন ও প্রাথমিক পর্যায়ে আগমনকারী আরব মুসলমান হিসেবে অনুমান করেন। থাম্ভইক্যারা মুসলিম হিসেবে পরিচিত হলেও বিশ্বাস ও সামাজিক দিক থেকে প্রায় আরাকানী মগদের মত। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামের মৌলিক বিষয় এবং রীতিনীতি ছাড়া আরাকানী মগদের সাথে তাদের তেমন কোন পার্থক্য নেই। তারা আরাকানী মগদের মত পোষাক পরে এবং আরাকানী মগদের মতই আরাকানী মগী ভাষায় কথা বলে। এ গোত্রের লোকসংখ্যা মাত্র কয়েকশত। 

জেরবাদী 

জেরবাদী আরাকানের অন্য আর একটি মুসলিম জনগোষ্ঠী। বর্মী মুসলমানদেরকে সাধারণত জেরবাদী নামে আখ্যা দেয়া হয়। এরা মূলত বাংলা, ভারতীয় এবং বর্মী তথা আরাকানীদের সমন্বয়ে একটি বর্ণসংকর মুসলিম জনগোষ্ঠী। বাংলার মুসলমান ছাড়াও ভারতীয় বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকজন আরাকানে গিয়ে স্থানীয় মগ মেয়েদের বিয়ে করার ফলে যে বর্ণ সংকর মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়, এরাই জেরবাদী নামে পরিচিত। আরাকানে বসবাসকারী জেরবাদ নামে খ্যাত মুসলমানদের সংখ্যাও খুব কম। এরা উর্দূ ভাষাভাষী হলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় আরাকানী ভাষাকেই গ্রহণ করে। আরাকানী মগদের সাথে বেশী পরিমানে সম্পৃক্ত হবার কারণে ‘জেরবাদী’ মুসলমানদের বিশ্বাস ও সামাজিক কর্মকা-ে বৌদ্ধ ও মগ প্রভাব খুব বেশী।

কামানচি

‘কামানচি’ আরাকানের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম জনগোষ্ঠী। এরা মূলত মোগল সুবেদার শাহ মুহাম্মদ শুজার সাথে আরাকানে আশ্রিত শুজার অনুগামী বিশ্বস্ত অনুচর এবং তাদের আত্মীয় স্বজন। কামান ফারসি শব্দ। পারস্যে ধনুক’কে কামান নামে আখ্যা দেয়া হত। এ ধনুক ব্যবহারকারী মুসলিম সৈনিকদেরকে কামানচি নামে অভিহিত করা হয়।

বাংলার মোগল সুবেদার শাহজাদা মুহাম্মদ সুজা উত্তরাধীকার দ্বন্দ্বে ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধে স্বীয় ভাই আওরঙ্গজেবের সাথে পরাজিত হয়ে আরাকান শাসক সান্দা থু ধম্মার দরবারে আশ্রয় প্রার্থী হয়েছিলেন। রাজা সান্দা থু ধম্মা লোভের বশবতী হয়ে সহযোগিতার পরিবর্তে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে স্বপরিবাবে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর শাহ সুজার অনুসারীগণ বিদ্রোহী হয়ে উঠলে রাজা সান্দা থু ধম্মা তাদের সকলকে রাজার দেহরক্ষী এবং প্রাসাদরক্ষী বাহিনীতে চাকরি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এ মোগল সৈনিকগণ তীরন্দাজ বাহিনী ছিলেন এবং  আরাকানের রাজার প্রাসাদ রক্ষী ও দেহরক্ষী বাহিনীতেও তীরন্দাজ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবার কারণে এদেরকে ‘কামান বাহিনী’ বা ‘কামাঞ্চী’ বলে অভিহিত করা হত। আকার-আকৃতি ও স্বভাবগত দিক থেকে তারা মোগল কিংবা আফগানদের মতো। 

রোহিঙ্গা

রোহিঙ্গা বর্তমান বিশ্বের আলোচিত ও ভাগ্য বিড়ম্বিত একটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম। আরাকান রাজ্যের মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে রোহিঙ্গাদের ভূমিকা ছিল প্রধান। কেননা আরাকানের সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৯০% রোহিঙ্গা নামে পরিচিত। অথচ মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নৃতাত্বিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে আরাকান অঞ্চল থেকে মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঐতিহ্যকে স্মৃতিপট থেকে মুছে ফেলতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এমনকি আরাকানের মগ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদেরকে আরাকানী হিসেবে পরিচয় দিতেও নারাজ।

রোহিঙ্গাদের উদ্ভব ও বিকাশ আলোচনায় বহুমূখী বিতর্ক ও মতামত রয়েছে। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গারাই আরাকানের প্রথম বসতি স্থাপনকারী আরব মুসলমান হিসেবে প্রচ্ছন্নভাবে দাবী করে বলা হয়েছে যে, রহম শব্দ থেকেই রোহিঙ্গা নামের উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ অষ্টম শতাব্দীতে আরাকানে চন্দ্রবংশীয় রাজাদের শাসনামলে বৈশালী ছিল তাদের রাজধানী। সে সময় চন্দ্রবংশীয় রাজা মহৎ-ইঙ্গ-চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮৮-৮১০ খ্রি.) কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্য বহর রামব্রী দ্বীপের পার্শ্বে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা রহম (দয়া) রহম বলে চিৎকার করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে এবং আরাকানরাজ তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের অনুমতি দান করেন। আরবি ভাষায় অনভিজ্ঞ স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ‘রহম’ গোত্রের লোক মনে ‘রহম’ বলে ডাকতো। ক্রমশ শব্দটি বিকৃত হয়ে রহম>রোঁয়াই>রোয়াই> রোয়াইঙ্গা বা রোহিঙ্গা নামে খ্যাত হয়। 

স্থানীয় ইতিহাস বিশারদ আবদুল হক চৌধুরী আরো মনে করেন যে, আরাকানে বসতি স্থাপনকারী চট্টগ্রামী পিতার ঔরসে ও আরাকানী মগ মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণকারী আরাকানী ও চট্টগ্রামী উপভাষী মুসলমান বর্ণসংকর জনগোষ্ঠীও আরাকানের রোহিঙ্গা গোত্র। কালক্রমে আরাকানের রোহিঙ্গা গোত্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও পরবর্তীতে নতুন নতুন চট্টগ্রামী বসতি স্থাপনকারীদের আগমনের ফলে তাদের সংখ্যা অধিক হয়। তখন নিজেদের গোত্রের মধ্যে মুখ্যত বিয়ে-শাদী সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তারা চট্টগ্রামী উপ-ভাষাকে  আরাকানের রোহিঙ্গা গোত্রের পারিবারিক ভাষা হিসেবে চালু রাখতে সক্ষম হয়। আরাকানে রোহিঙ্গাদের উদ্ভব সম্পর্কে তিনি তিনটি পর্বের উলেখ করেন।

প্রথমত; আরাকানের রাজা নরমিখলা দীর্ঘ ২৪ বছর (১৪০৬-১৪৩০ খ্রি.) বাংলার সুলতানদের আশ্রয়ে গৌড়ে অবস্থান করেন। অতঃপর সুলতান জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহ কর্তৃক দু’পর্বে পঞ্চাশ হাজার গৌড়ীয় সৈন্য দিয়ে আরাকানের রাজধানী পুনরুদ্ধার করে দিলে নরমিখলা সোলায়মান শাহ নাম দিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। আরাকানের পুরাতন রাজধানী লঙ্গিয়েত বারবার পরাজয়ের কারণে তার কাছে অকেজো বিবেচিত হয়। সেইসাথে বার্মার সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য গৌড়ীয় মুসলিম সেনাপতির পরামর্শে ম্রোহং নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তর করা হয়। নরমিখলা মগদের বিশ্বাস করতে পারেনি হেতু নতুন রাজধানীকে সুরক্ষিত করার জন্য মগ বসতির চারদিকে গৌড়ীয় মুসলমানদের বসতি গড়ে তোলেন। এ সময়ে আগত মুসলিম সৈনিকদের পাশাপাশি পরবর্তীতে তাদের আত্মীয় স্বজন এবং বিভিন্ন পেশার শ্রমিকগণ আরাকানে বসতি স্থাপন করেন। এ শ্রমিক শ্রেণির বেশীরভাগ লোকই ছিল চট্টগ্রামের অধিবাসী। সুতরাং তাদের বংশধরগণই  রোহিঙ্গা নামে খ্যাত হয়।

দ্বিতীয়ত; ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় পঁচাশি বছরব্যাপী চট্টগ্রাম একাধিকক্রমে আরাকানের শাসনাধীনে ছিল। এ সময়টা ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার পর্তুগিজ ও আরাকানী মগ জলদস্যুদের দাস ব্যবসার কালো যুগ। তখন চট্টগ্রাম ছিল আরাকানীদের শাসনাধীন এবং আরাকান রাজসভায় বড় ঠাকুর, মাগন ঠাকুর, আশরাফ খাঁ, সোলায়মান, নবরাজ মজলিশ, সৈয়দ মুহাম্মদ প্রমুখ বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আরাকানের বিচারকের আসনেও অধিষ্ঠিত ছিল মুসলমান কাজি। এমনকি সেনা বিভাগেও ছিল মুসলমান সৈনিক। আরাকান রাজসভায় দায়িত্ব পালনকারী এ সকল মুসলমানগণের অধিকাংশই ছিলেন চট্টগ্রামী। সুতরাং এ সময়ে চট্টগ্রাম থেকে মানুষ চুরি করার চেয়ে তারা বাংলার অন্যান্য অঞ্চলে অপহরণকার্য বেশি চালিয়েছে। পক্ষান্তরে চট্টগ্রাম-আরাকানে চাকরি ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে আরাকান যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আরাকানে অবস্থানরত গৌড়ীয় দাসগণও এদের সাথে যুক্ত হতে পারে। সুতরাং এ পর্বেও রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

তৃতীয়ত; ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ইঙ্গ-বর্মী যুদ্ধে আরাকান ইংরেজদের অধিভুক্ত হয়। তখন বাংলা-চট্টগ্রাম ও আরাকান একই শাসনভুক্ত হবার কারণে বাংলার অনেক জনগণ অস্থায়ী ও স্থায়ী ভিত্তিতে জীবিকার অন্বেষণে চট্টগ্রামে যায়। এভাবে অনেক কৃষক-শ্রমিক আরাকানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে। রাজা নরমিখলার মৃত্যুর পর ১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা মিনখেরী ওরফে আলী শাহ আরাকানের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হলে আরাকান গৌড়ের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়। ফলে তখন গৌড়ের কিছু সৈনিক ফিরে এলেও অধিকাংশ সৈনিক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক আরাকানেই স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলে।

রাখাইং শব্দ থেকে রোহিঙ্গা নামের উৎপত্তি হয়েছে বলেও মন্তব্য পাওয়া যায়। তারা মনে করেন রাখাইং শব্দ থেকে রোয়াং হয়েছে এবং এ রোয়াং শব্দটি বিকৃত হয়ে রোয়াইঙ্গা শব্দের গঠন হয়েছে। তাদের মতে রোয়াং তিব্বতী বর্মী শব্দ যার অর্থ বুঝায় আরাকান। এ জন্য অদ্যাবধি চট্টগ্রাম জেলায় রোয়াং বলতে আরাকান এবং রোহিঙ্গা বলতে আরাকানের অধিবাসীকে বুঝায়। যদি এ মতকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় তবে রোঁয়াই-চাটি শব্দদ্বয়ের যথার্থতা খুঁজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দারা নিজেদের চাটি এবং আরাকান থেকে আগত ও অত্র অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদেরকে রোঁয়াই বলে সম্বোধন করে থাকেন। তবে রোহিঙ্গা শব্দটি রাখাইন শব্দ থেকে উৎপত্তি ধরা না হলেও রোঁয়াই বলতে আরাকান অঞ্চল বুঝায় এতে কোন সন্দেহ নেই।

রোহিঙ্গা নামের উৎপত্তি ম্রোহং শব্দ থেকে হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আরাকানের বিতাড়িত রাজা নরমিখলা ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ শাহের প্রত্যক্ষ সহায়তায় হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করে মুহাম্মদ সোলায়মান শাহ নাম নিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। তিনি রাজধানী লংগিয়েতের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দে রামু বা টেকনাফ থেকে শত মাইলের মধ্যে লে¤ব্রু নদীর তীরে ম্রোহং নামক স্থানে রাজধানী স্থানান্তর করেন। এটাই ছিল আরাকানের শেষ অবধি (১৭৮৫ খ্রি. পর্যন্ত) রাজধানী। এ ম্রোহং শব্দটি মুসলমানদের মুখে এবং লেখায় রোহাং উচ্চারিত হয়। এভাবে রোয়াং> রোহাং> রোহিঙ্গা নামকরণ হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, আরাকানের শেষ রাজধানী ম্রোহং; এর সাধারণ উচ্চারণ রোহাং। এ রোহাং এর মুসলিম অধিবাসীদেরকে রোহিঙ্গা বলা হয়।

সুতরাং সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, ম্রোহংয়ের অধিবাসী হবার কারণে আরাকানের মুসলমানগণকে রোহিঙ্গা বলা হয়ে থাকে। অতএব আরব বণিক, নাবিক, ইসলাম প্রচারক, রোহার থেকে আগত ইসলাম প্রচারক, গৌড়ীয় মুসলিম সৈন্য, বাংলায় অপহৃত দাসগণসহ অধিকাংশ মুসলমানই রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাহলে সমসাময়িক লেখকদের লেখায় রোহিঙ্গা শব্দটি পাওয়া যায় না কেন? উত্তরে বলা যেতে পারে যে, বাংলার অধিবাসী হবার কারণে যেমন বাঙ্গালী বলা হয় অথচ বাঙালীর হাজার হাজার বছর পূর্বের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা হলেও বাঙালী শব্দের প্রয়োগ সমসাময়িক লেখকদের লেখায় পাওয়া যায় না। বলা চলে বাঙালী কথাটিও আধুনিক কালের প্রয়োগ। অথচ আধুনিক কালের প্রয়োগ হলেও যেমন বাঙালীর ইতিহাস হাজার বছরের তেমনি রোহিঙ্গা শব্দটি আধুনিক কালের হলেও রোহিঙ্গাদের ইতিহাসও হাজার বছরের চেয়েও পুরনো। এরা পরিচয়হীনভাবে বেড়ে ওঠা কোন জনগোষ্ঠী নয়। মূলত রোহিঙ্গারাই আরাকানের স্থায়ী ও আদি মুসলমান। (চলবে)

(লেখক : প্রফেসর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ