মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

উলিপুরে বুদা-দা’র দুঃখের কাহিনী শুনার কেউ নেই

 

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদাদতা : উলিপুরে  ছোট বড় সকলের অতি পরিচিত প্রভাত চন্দ্র দাস বুদা, তাকে প্রভাত চন্দ্র দাস হিসাবে কেহ না চিনলেও বুদা-দা নামে এক বাক্যে সকলেই তাকে চেনে। বুদা-দা স্থানীয় উলিপুর মহারানী স্বর্নময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করে অবসরে যাওয়ার পর, সেই অবসর জীবনে  তার মহা দুর্দিন নেমে এসেছে। স্ত্রী,বিধবা পুত্রবধু ও একমাত্র নাতনীকে নিয়ে তার সংসার হলেও উপার্জনের কেহ না থাকায় তার এ দুর্দিনে করুন অবস্থা। জাতীয় পরিচয় পত্রে ১৫জুন ১৯৪৮সাল জন্ম তারিখ দেখানো হয়, এতে তার  বয়স ৬৯ বছর হলেও তার আসল বয়স ৯০ বছর  পেরিয়ে গেছে।

 কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী  এই উচ্চ বিদ্যালয়ে সুদীর্ঘ ২৯ বছরকাল দপ্তরি পদে চাকরি করে অবসরে যান তিনি। অবসরে যাওয়া কালিন সময়ে সরকারি ভাবে এককালিন সামান্য কিছু অর্থ পান। তার অন্য কোন সহায় সম্পদ না থাকায় সেই অর্থ দিয়ে কোন রকমে ছোট ২ কন্যার বিয়ে সারেন। উপজেলা সদরে জোদ্দারপাড়ায় বসবাসরত অসহায় প্রভাত চন্দ্র দাস বুদা চাকরি শেষে অবসরে তার একটু সুখ শান্তি নিয়ে জীবন যাপনের কথা থাকলেও  আজ তার উল্টোটাই হয়েছে। ১৯৮৭ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করার পর এই দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরকাল বৃদ্ধ  বয়সে উপার্জনাক্ষম হওয়ায়  মহাকষ্টে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করছেন। তার ৫ মেয়েকে অতিকষ্টে বিভিন্ন সময়ে বিয়ে  দিতে পারলেও উপার্জনের  একমাত্র  ছেলে প্রদীপ চন্দ্র সরকার  বিগত ২০১০ সালে  কেডনি বিকল হয়ে অকালে পরলোকগমন করেন। তার বিধবা স্ত্রী ও এক কন্যা রয়েছে। সব কিছু মিলে বুদা-দার স্ত্রী বিধবা পুত্রবধু ও নাতনীকে নিয়ে তার সংসারে ৪ সদস্য। এ অবস্থায় তিনি পর নির্ভরশীলতায় হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছেন। বিধি মোতাবেক ৬৫ বছর বয়স হলে উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তর থেকে স্বামী ও স্ত্রীর বয়স্ক ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও কোন অজ্ঞাত কারণে কারই কোন বয়স্ক ভাতা মিলছে না।  অপরদিকে তার একমাত্র পুত্র প্রদীপ চন্দ্র সরকার অকালে পরলোকগমন করলে তার বিধবা স্ত্রী মমতা সরকার বিধবা ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও তিনিও পাচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরের সুদৃষ্টির অভাবে। প্রভাত চন্দ্র দাস বুদা’র পরিবারের করুন এ অবস্থার কথা অবগত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বয়স্ক ভাতা’র ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ দিকে অসহায় এই পরিবারটির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ থেকে সরকারি ভাবে অনেকের সাহায্য সহযোগিতা মিললেও বুদা-দা’র ক্ষেত্রে সব কিছুই তার উল্টো বলে তিনি অশ্রুস্বজল নয়নে এই প্রতিনিধিকে জানান। সেই সাথে তিনি তার এ করুন অবস্থার প্রতি সুদৃষ্টি দেয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার চাকরিকালিন সময়ে যে  সব ছাত্র এ  বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে দেশে এবং বিদেশে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন এবং  তার শুভাকাঙ্কীদের প্রতিও একই ভাবে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ