শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জেরুসালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি

২১ ডিসেম্বর, বিবিসি : জেরুসালেম ইস্যুতে বিরুদ্ধে থাকা দেশগুলোকে আর্থিক সহাযতা বন্ধের হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুসালেমের নাম প্রত্যাহারের প্রস্তাবে আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোট অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। সোমবার মিশর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জেরুসালেম প্রশ্নে একটি খসডা প্রস্তাব উত্থাপন করে। ১৪টি সদস্য দেশ সে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও স্থাযী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেযায প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়।

খসডা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি না আসলেও জেরুসালেম সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করার প্রস্তাব ছিল এখানে। ট্রাম্প বলেছেন, ‘ঐসব দেশ আমাদের কাছ থেকে অর্থ সহাযতা নিয়েছে, আবার নিরাপত্তা পরিষদে আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’ ‘তাদের এসব করতে দিন। আমরা টাকা সঞ্চয করবো, আমরা কোন পরোযা করিনা।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অ্যাম্বাসাডর হ্যালে তাদের পক্ষে ভোট দেযার জন্য কূটনীতি নয, শক্তি প্রয়োগ করে অন্যান্য দেশগুলোকে নিজেদের পক্ষে ভোট দেযানোর চেষ্টা করছে। ওযাশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা ও সেখানে দূতাবাস স্থানান্তর ইসরাইলের সার্বভৌম অধিকার। কিন্তু জাতিসংঘের অধিকাংশ দেশ বিষযটিকে সেরকম মনে করে না।

 স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে কঠোর বিরোধিতা এসেছে ওযাশিংটনের সমালোচকদের কাছ থেকে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বন্ধুভাবাপন্ন অনেক দেশই এই হুমকিকে ফাঁকা বুলি দাবী করছে। একজন সিনিযর কূটনীতিক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘে ইসরাইলের পক্ষ নেযার জন্য দৃঢপ্রতিজ্ঞ ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে পাস না হওযা প্রস্তাব তোলা মিসরকে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সহযোগিতা দেযা বন্ধ করে দেবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ সভায উঠতে যাওযা খসডা প্রস্তাব মিসরের আবেদনের ওপর ভিত্তি করে নেযা হয়েছে।বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারা জেরুসালেম ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওযায বৃহস্পতিবারের সাধারণ সভায যুক্তরাষ্ট্র যে কোণঠাসা হয়ে পডবে তা নিশ্চিত।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দে¦র কেন্দ্রে এখন জেরুসালেম ইস্যু।১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে এটিকে তাদের অবিভক্ত রাজধানী ঘোষণা করে। আগে এটি জর্ডানের অধীনে ছিল।

ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী বানাতে চায। শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপে এই বিষয নিয়ে জেরুসালেমের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌশ অধিকার কখনোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হযনি।

সব দেশের দূতাবাস তাই তেল আবিবই স্থাপন করা হয। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েক তার দেশের দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর করার নিন্দেশ দিয়েছেন।জেরুসালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বহুবছরের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করায ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ ১৯৩ সদস্যের একটি জরুরি সাধারণ সভা ডেকেছে।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেযার পর ফিলিস্তিনিরা এই মিটিং ডাকে। জেরুসালেম সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত ‘অকার্যকর ও বাতিল’ করার দাবীতে এবং সব রাষ্ট্রকে ‘পবিত্র শহরে কূটনীতিক মিশন স্থাপন করা থেকে বিরত থাকার’ আহ্বান জানায ফিলিস্তিনিরা।নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৪ সদস্য দেশ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিলেও জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্রের স্থাযী প্রতিনিধি নিকি হ্যালে এটিকে ‘অপমান’ হিসেবে আখ্যাযতি করেন।

তুরস্ক ও ইয়েমেনের উত্থাপিত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বসতে যাওযা জাতিসংঘের সাধারণ সভায নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোপ্রাপ্ত প্রস্তাবের খসডা নিয়েই আলোচনা হবে। তবে এই প্রস্তাব মানা নিয়ে কোনো দেশের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্থাযী প্রতিনিধি রিযাদ মানসুর বলেছেন এই প্রস্তাবের পক্ষে ‘সম্পূর্ণ সমর্থন’ আশা করছেন তারা।কিন্তু মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সদস্য দেশকে চিঠির মাধ্যমে মিজ হ্যালে জানান ‘প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র এই ভোটকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ¦ হিসেবে বিচার করবে।’

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা আছে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ভোটের দিকে নজর রাখবেন। কোন কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভোট দিচ্ছে সেটি যেন ট্রাম্পকে রিপোর্ট করা সেবিষয়েও নিন্দেশ দেযা হয়েছে মিজ হ্যালেকে।

 যেসব সাংবাদিকদের চিঠিটি দেখানো হয়েছে তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।মিজ হ্যালে জানান প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ফলে আলোচনার চূডান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হবে না।

জেরুসালেমের পবিত্র স্থাপনাগুলোর সম্মান রক্ষার বিষয়েও ট্রাম্প পূর্ণ সমর্থন দেবেন বলে জানান মিস হ্যালে।ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিযাদ আল-মালিকি ও তুরস্কের পররাষ্ট মন্ত্রী মেলভুত চাভুসোগলু যুক্তরাষ্ট্রকে ভীতি প্রদর্শনের দায দিয়েছেন।নিউইযর্ক যাত্রা করার আগে আঙ্কারায এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চাভুসোগলু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোণঠাসা হয়ে এখন হুমকির পন্থা অবলম্বন করছে। যে কোনো সম্মানিত, সম্ভ্রমশালী দেশ এমন চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ