শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ডিজিটালাইজড হচ্ছে রোহিঙ্গা ভাষা

 

২১ ডিসেম্বর, গার্ডিয়ান : অনলাইনে ব্যবহারের উপযোগী করতে রোহিঙ্গা ভাষাকে ডিজিটালাইজড করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো।

গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, যে বিশ্ব কোডিং সিস্টেমের অধীনে সমস্ত লিখিত ভাষাকে অনলাইনে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়, সেই ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ডের সর্বশেষ সংস্করণে রোহিঙ্গা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মূলত যাদের বাস, সেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর সামরিক নির্যাতন শুরুর পর তারা বিশ্বের নজরে আসে।মূলত মুসলিমপ্রধান রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে দমন নিপীড়ণ চালিয়ে আসছে। মিয়ানমার তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় দিতে চায় না বলে তাদের রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করে না। তারা তাদের বলে বাঙালি।রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের নির্যাতন থেকে আত্মরক্ষার্থে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে গত ২১ অক্টোবর শরণার্থী শিবিরে নারী-শিশুদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে তুর্কী সাহায্য সংস্থা। রোহিঙ্গাদের সাথে বামার জনগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্যের আরেকটি কারণ হলো তাদের ভাষা। মিয়ানমারের জনসংখ্যার অধিকাংশই হলো বামার। রোহিঙ্গাদের ভাষা বাংলার একটি উপভাষার মতো, যে কারণে এ ভাষা মিয়ানমারের বাকি জনগোষ্ঠী বুঝতে পারে না।রোহিঙ্গা ভাষা লিখিত রূপ পেয়েছে মাত্র আশির দশকে। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরার জন্য রোহিঙ্গা ভাষার এই লিখিত রূপ দেয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন মোহাম্মদ হানিফ।হানিফ বলেন, ‘যদি কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষার লিখিত রূপ না থাকে, তাহলে সহজেই দাবি করা যায় যে তাদের অস্তিত্বই নেই। তখন তাদের দমন করা সহজ হয়।’ ইউনিকোড স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেমে রোহিঙ্গা ভাষার অন্তর্ভুক্তির কারণে তারা অনলাইনে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারবে। এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে দাতব্য সংগঠন ট্রান্সলেশান উইদাউট বর্ডার্স (টিডাব্লিউবি)। সহিংস এলাকায় অনুবাদের ব্যাপারে সহায়তা করে এ সংগঠন। টিডাব্লিউবি-এর কর্মকর্তা রেবেকা পেট্রাস গার্ডিয়ানকে বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাষা ও তাদের পরিচিতি সংরক্ষণের জন্য এই কাজটা জরুরি।ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের ভাষাকে আরো শক্তিশালী করবে এবং এর সংরক্ষণের প্রক্রিয়াকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।’ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অনেক রাজনীতিবিদ বলেছেন, তারা একটা ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটে পতিত হয়েছে। জীবন বাঁচাতে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ