শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন  স্থগিতই থাকছে

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার দুই ভাইকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতের আদেশ ২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। ওইদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে। ফলে ২ জানুয়ারির আগ পর্যন্ত আপন জুয়েলার্সের মালিকদের মুক্তি মিলছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এ আদেশ দেন। এছাড়া এ মামলাটি আপিল বিভাগের নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিনও নির্ধারণ করেন আদালত। 

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টির ওপর শুনানি হলো।

আদালতে সরকার পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আপন জুয়েলার্সের মালিকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুন্সী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।

গত ১৪ ডিসেম্বর তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের জামিন হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেন।

এর আগে ২২ নবেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। 

জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গত মে মাসে দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদকে গ্রেফতার করে। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের অবৈধ লেনদেনের তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা।

গত ১২ আগস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি। এসব মামলায় দিলদার আহমেদের দুই ভাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তবে জামিনের সময়সীমা শেষ শেষ হওয়ার পর তারা নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে তিন জনই গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার মহানগর আদালতে ভিন্ন ভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইয়েরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। 

আদেশের পর আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, একটি সোনার দোকানকে কেন্দ্র করে শুল্ক আইনে নোটিশ দেয়া হয়েছিল, সেখানে চোরাচালানের অভিযোগের কথাও বলা ছিল। সেই নোটিশ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলা করেছে। কিন্তু এটা অর্থ পাচার আইনের বিষয়ই নয়। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ