মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কনটেইনার স্ক্যানার চালু হলো

 

খুলনা অফিস : দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মংলা ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম  মোবাইল (ভ্রাম্যমাণ) কনটেইনার স্ক্যানার পেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্দর জেটির চার নম্বর কনটেইনার ইয়ার্ড সংলগ্ন স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরীক্ষার মাধ্যমে স্ক্যানারটির কার্যক্রম শুরু করেন মংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মারগুব আহমেদ।

এদিকে কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিনটি চালু হওয়ায় বন্দরে আমদানিকৃত কনটেইনার না খুলেই এর ভেতর কী ধরনের পণ্য রয়েছে তা দেখা যাবে। এতে করে কাস্টমস ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

মংলা কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সাধারণত বন্দরে বিভিন্ন পণ্য স্পর্শ না করে গুণগত মান অক্ষুণœ রেখে পরীক্ষার জন্য কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিনটি ব্যবহার করা হবে। মংলা বন্দরে ব্যবহারের জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর চীন থেকে একটি কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিন আনা হয়।

মংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মারগুব আহমেদ বলেন, চীন সরকারের আর্থিক অনুদানে চারটি মোবাইল (ভ্রাম্যমাণ) কনটেইনার স্ক্যানার পাওয়া গেছে। একটি মংলা বন্দরের জন্যে। বাকি তিনটি চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দর ও ঢাকার কাস্টমস হাউসের (আইসিডি) জন্য। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৭ বছর পর মংলা বন্দর ডিজিটাল কনটেইনার স্ক্যানার পেল। তিনি আরো জানান, কায়িক পরীক্ষার সময় নানা ধরনের জটিলতার কথা বারবার বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বন্দরে একটি স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়েছে। এই কার্যক্রমের ফলে কোন হাতের স্পর্শ ছাড়াই দুই মিনিটে একটি কনটেইনার স্ক্যানিং করা সম্ভব হবে। ফলে বন্দরের পণ্য খালাস কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে এবং শুল্ক সংগ্রহ কার্যক্রম সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

মংলা বন্দরের সহকারী ট্রাফিক ব্যবস্থাপক মো. সোহাগ জানান, এ বন্দর দিয়ে কনটেইনারে করে সুপারি, লাইমস্টোন, গ্যাস সিলিন্ডার, কসমেটিকস পণ্য ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য আমদানি করা হয়। শুল্কায়ন ও খালাসের জন্য এসব পণ্য পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। স্ক্যানিং মেশিন না থাকায় এতদিন কনটেইনার খুলে পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু এখন মেশিনটি চালু হওয়ায় আর কনটেইনার খোলার প্রয়োজন হবে না।

মংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং ব্যবসায়ী শেখ বদিউজ্জামান টিটু স্ক্যানিং মেশিন চালুর বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতদিন মংলা বন্দরে পণ্য পরীক্ষার সময় ব্যবসায়ীদের নানা হয়রানির মুখোমুখি হতে হতো। কনটেইনার খুলে পণ্য পরীক্ষা করতে সময়ও লেগে যেত অনেক বেশি। কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিনটি চালু হলে একদিকে যেমন আমদানিকারকদের আর বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না, তেমনি তাদের অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হবে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষার ব্যবস্থা হওয়ার কারণে এর মাধ্যমে চোরাচালানের আশঙ্কা কমে যাবে। 

এ ব্যাপারে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, মংলা বন্দরে কনটেইনার স্ক্যানিং মেশিনটি চালু হওয়ায় বন্দরে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য স্পর্শ না করেই গুণগত মান অক্ষুণœ রেখে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে কাস্টমস ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হবেন। তিনি আরো বলেন, এ বন্দরে আরো অন্তত ৮/১০টি স্ক্যানার মেশিন প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ