শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

বিশ্ব এখন বিবেক ও বিবেকহীনতার মুখোমুখি!

কী জামানা এলো! পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের নেতারা একে অপরকে গালাগাল করছেন। অস্ত্রের ভাষা উদ্ধত, সে কথা আমরা জানি; এ কারণেই কি অস্ত্রের মালিকদের আচরণ এখন এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে? চিত্রটা বর্তমান সভ্যতায় এতটাই উৎকট হয়ে উঠেছে যে, কোনো কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে বিবেকবান মানুষরা এখন মাস্তান বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রসঙ্গত মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক মাস্তান ও খলনায়ক আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মাহাথির বলেন, সব ধরনের শক্তি প্রয়োগ করে হলেও অবশ্যই ট্রাম্পকে ঠেকাতে হবে। আজ আমরা একজন আন্তর্জাতিক মাস্তানকে দেখছি। তার সিদ্ধান্ত মুসলিম ক্ষোভকেই কেবল বাড়াবে।

সব মুসলিম দেশকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন মাহাথির। ট্রাম্পকে ঠেকাতে সব ধরনের শক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মাহাথির এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত নন। কিন্তু ট্রাম্পের একের পর এক উদ্ধত ও মাস্তানি আচরণ তাঁকে এমন ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করেছে। বিশ্ববাসী জানে, ইসরাইল ভূমিপুত্র ফিলিস্তিনিদের সাথে দীর্ঘকাল ধরে কী নিষ্ঠুর ও আগ্রাসী আচরণ করে যাচ্ছে। তারপরও সেই ইসরাইলকেই অব্যাহতভাবে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। এখন আবার ফিলিস্তিনিদের পবিত্র শহর জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান এমন পাগলামী করেন কোন কা-জ্ঞানে? মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাস্তান মানসিকতার মানুষই হয়তো এমন কা- করতে পারেন। 

ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্রগুলোও ট্রাম্পের ঘোষণার বিরোধিতা করেছে। এখন আবার পূর্ব-জেরুসালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং এ কথা জানান। এএফপি পরিবেশিত খবরে আরো বলা হয়, লুক্যাং জানান, জেরুসালেম ইস্যুতে তার দেশ মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগের বিষয়ে অবগত এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক ঐকমত্য অনুযায়ী জেরুসালেমের মর্যাদা নির্ধারণ সমর্থন করে। চীনের এমন সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল ফিলিস্তিন। এখন দেখার বিষয় হলো, বিশ্ববাসীর সমর্থনের বিপক্ষে ট্রাম্পের বিবেকহীনতা কতটা কার্যকর থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ