রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লালমনিরহাটে বিএনপি- আওয়ামী  লীগ সংঘর্ষে আহত-১৫

 

লালমনিরহাট সংবাদদাতা : মহান বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট শহরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১৫জন আহত হয়। এসময় উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকালে শহরের রেল  ষ্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে শ্রমিক লীগ অফিস থেকে বিজয় দিবসের র‌্যালি বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় একশো গজ দুরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল অফিস থেকে বিজয় দিবসের র‌্যালি বের করলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এতে বাধা দেয়। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘটে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা। সংঘর্ষে লালমনিরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল), সুশান্ত কুমার সরকার, এসআই আলমগীর, দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার  জেলা প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, এশিয়ার টিভি জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান জুয়েলসহ উভয় দলের অন্তত ১৫জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এ ঘটনায় বর্তমানে শহর জুরে আতংক বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতয়েন করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা জানান, মহান বিজয় দিবসে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামীলীগ পরিকল্পিতভাবে হামলা করে নিরীহ নিরস্ত্র নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

তবে লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবীর এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিএনপির এক কর্মী প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছেড়েছে। ওই কর্মীকে খুঁজে বের করে না দেয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ কর্মী মিছিল করতে বারণ করে। এতে বিএনপির কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে হামলা শুরু করে। হামলায় আওয়ামীলীগের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। 

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহলরত রয়েছে  জেলা পুলিশের  স্পেশাল টীম। 

এদিকে শনিবার সকালে হাতিবান্ধা থানার সানিয়াজান এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫জন শিবির কর্মীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আটককৃতরা হলো, স্থানীয় শিবির কর্মী জাহাঙ্গীর আলম (২০), গোলজার হোসেন (১৯), উচ্চাস (১৬), আবু সাঈদ (১৫) ও নিশান (১৭)। 

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল বাতেন জানান, বিজয় দিবসে আয়োজিত র‌্যালি থেকে পুলিশ ওই ৫জন শিবির কর্মীকে আটক করে হরতাল-নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। তিনি আটক শিবির কর্মীদের দ্রুত মুক্তির দেয়ার দাবি জানান। 

হাতিবান্ধা থানার ওসি ৫জন শিবির কর্মীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটকদের প্রত্যেকের নামে নাশকতার মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ