শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক সমাজকে  অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে  - হারুনুর রশীদ খান

 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খান বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও পেশা নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। দেশের শ্রমিক সমাজও মহান মুক্তিসংগ্রামে অসামান্য অবদান রেখেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও শ্রমিক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই অধিকার আদায়ে শ্রমিকদেরকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শ্রমিক সমাজকে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান, মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম আতিকুর রহমান, কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. বশীর আহম্মেদ, শ্রমিক নেতা আবু হানিফ ও রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

অধ্যাপক হারুন বলেন, ১৭৫৭ সালে পলাশীর আ¤্রকারণে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব শহীদ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়। মীর জাফর ও জগৎ শ্রেষ্ঠ গংদের সহায়তায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে। ফলশ্রুতিতে আমাদের প্রায় দু’শ বছর ইংরেজদের গোলামী করতে হয়েছে। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর ১৯৪৭ সালে আমারা স্বাধীনতা অর্জন করি। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাজিত হয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তখন আমরা স্বাধীনতা লাভ করিনি। মূলত আমাদের প্রভূ পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। তাই অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমাদেরকে একটি মরণপণ মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর আমারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর উপর্যুপরি ব্যর্থতার কারণেই আমাদের বিজয় এখনও অর্থবহ হয়ে ওঠেনি। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিকরা আজও অবহেলিত। তাই অধিকার আদায়ে শ্রমিকদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। কারণ, অনৈক্য মানুষকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করে। মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকদের বিবাদে জড়ানোও মোটেই কাক্সিক্ষত নয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটা ব্যবধান সৃষ্টি হয়। যা মালিক ও শ্রমিক কোন পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। বরং যেকোন সমস্যা উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই কল্যাণকর। মূলত রাসূল (সা.) অনুসৃত শ্রমনীতির অনুস্থিতিই মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। তিনি ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ: শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক কল্যাণ দক্ষিণের সভাপতি মোঃ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে, শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কবির আহমেদ বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সমগ্র জাতির অবদানের কথা আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ও শহীদদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।

তিনি আরো বলেন, জাতি এমন এক সময় মহান বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাধীনতার মূল অর্জন গণতন্ত্রকে হারিয়ে সমাজ আজ এক অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে। যেখানে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার আজও বাস্তবায়ন হয়নি, স্বাধীনতার এত বছর পরেও রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক ভাবে শ্রমিকরা অবহেলিত। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা মোঃ খিজির আহমেদ, মোঃ নূরুল হকসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ