শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঢাকাকে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রংপুর

রফিকুল ইসলাম মিঞা : বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। গতকাল ফাইনাল ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা জয় করে মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। ফাইনাল ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন ঢাকাকে এতো সহজে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স শিরোপা জয় করবে তা অনেকেই ভাবেনি। কারণ ফাইনাল ম্যাচটা প্রত্যাশার চাইতে একটু একপেষেই হলো। তবে রংপুরকে শিরোপা এনে দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখেন ক্রিস গেইল। গতকাল রংপুরের হয়ে সেঞ্চুরিসহ ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেই গেইল রংপুরকে ২০৬ রানের নিরাপদ স্কোরে নিয়ে যায়। আর এখানেই পিছিয়ে পড়ে ঢাকা ডায়নাাইটস। অবশ্য এলিমিনেটর ম্যাচেও খুলনার বিপক্ষে সেঞ্চুরীসহ ১২৬ রান করে গেইল রংপুরকে ফাইনালের পথে নিয়ে যায়। গতকাল ফাইনাল ম্যাচেও ঢাকাকে হারিয়ে রংপুরকে শিরোপা এনে দেন গেইল। বিপিএলের আগের চারটি ফাইনালের তিনটিতেই শিরোপা জয় করেছিল ঢাকা। একবার শিরোপা যায় কুমিল্লার ঘরে। আর এবার শিরোপা জয় করা নতুন দল রংপুর রাইডার্স। তবে বিপিএলের শিরোপা জয়ের সাথে মাশরাফির একটা ভাগ্যে ঝড়িয়ে আছে।পাচবারের শিরোপার চারবারই উঠল মাশরাফিল হাতে। এর আগে মাশরাফি দুইবার ঢাকাকে শিরোপ এনেদিয়েছেন। কুমিল্লাকেও একবার উপহার দিয়েছেন শিরোপা। আর এবার মাশরাফির হাত ধরেই রংপুর জিতল বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা। গককাল আগে ব্যাট করে রংপুর এক উইকেটে করে ২০৬ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করলে রংপুর জয় পায় ৫৭ রানে। রংপুরকে বিজয়ী করা গেইলই হন ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ।
গতকাল ফাইনাল ম্যাচে জয়ের জন্য ঢাকার সামনে টার্গেট ছিল ২০৭ রান। টার্গেটা যে সাকিবের দলের জন্য কঠিন ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর ব্যাট করতে নেমে ফাইনাল ম্যাচের মতো খেলতেই পারেনি ঢাকা। কারণ বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলটি প্রথম থেকেই পিছিয়ে পড়ে। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই মাশরাফি এলবিডিøউয়ের ফাদে পড়ে হারায় মেহেদী মারুফের উইকেট। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় মারুফকে। পরের ওভারে সোহাগ গাজীর শিকার জো ডেনলি। শুণ্য রানে  মিডনে তার ক্যাচ নেন নহিদুল। ফলে দলীয় এক রানেই  নেই  ঢাকার দুই উইকেট।  তবে অপর ওপনার ইভান লুইসকে নিয়ে দলের হাল ধরার চেস্টা করেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু এ জুটিও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সোহাগের পরের ওভারে বিদায় নিতে হয় লুইসকে। আউট হওয়ার আগে নয় বলে তিনি করেন ১৫ রান।  লংঅনে প্রায় ২০ গজ দৌড়ে তার ক্যাচ নেন মাশরাফি। ফলে ১৯ রানেই নেই ঢাকার তিন উইকেট। আর শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ঢাকা। তার পরও পোলার্ড আর আফ্রিদিও উপর কিছুটা ভরসা করেছিল ঢাকা। তবে পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে রুবেল তুলে নেন পোলার্ডের উইকেট। লং লেগে তার ক্যাচ নেন গেইল। মাত্র ৫ রানে ফিরেন পোলার্ড। ফলে ২৯ রানে নেই ঢাকার চার উইকেট। পঞ্চম উইকেট জুটিতে উইকেটরক্ষ জহুরুল ইসলাম অমিকে নিয়ে সাকিব দলে  ইনিংস ৫০ এর ঘর পার করেন। দলীয় ৭১ রানে আউট হন অধিনায়ক সাকিরও। আউট হওয়ার আগে সাকিব করেন ২৬ রান। ব্যাট করতে নেমে আফ্রিদিও দলের হাল ধরতে পারেননি। মাত্র ৮ রানে আফ্রিদি ফিরলে ঢাকার সব আশা শেষ হয়ে যায়। তারপরও টিকে থেকে জহিরুল ফিফটি করে দলের পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমাতে পেরেছে। ৩৮ বলে ৫০ রান করা জহিরুলের স্কোরই দলে সর্বোচ স্কোর। নারিন করেন ১৪ রান।
এর আগে, টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ক্রিস গেইলের সেঞ্চুরিতে ২০৬ রানের বিশাল স্কোর গড়ে রংপুর রাইডার্স। ব্যাট করতে নেমে তিন বিদেশীর উপর ভর করেই চ্যাম্পিয়ন ঢাকাকে ২০৭ রানের বিশাল টার্গোট দিবে পারে মাশরাফির রংপুর। রংপুরের হয়ে ক্রিস গেইল আর জনসন চার্লস ওপেন করতে নামলেও দলীয় ৫ রানেই চার্লসকে ফিরতে হয় মাত্র তিন রানে। সাকিব নিজের বলে নিজেইে ক্যাচ নিয়ে চার্লসকে আউট করে বোলিংয়ের শুরুটা করেছিল ভালো কিছুর টার্গেট করেই। দলীয় ৫ রানে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ওপেনার চার্লসকে বিদায় করে বোলিংয়ের চমকটা সাকিবের দল দিয়েছিণেন ঠিকই। কিন্তু পরের ইতিহাস শুধুইই রংপুর রাইডার্সের। কারর চার্লস ৩ রানে ফিরলেও ম্যাকালামকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেন ক্রিস গেইল। আর কোন উইকেট না হারিয়ে এই দুই ব্যাটস্যান ২০১ রানে পার্টনারশীপ গড়ে দলকে নিয়ে যায় ২০৬ রানের নিরাপদ স্কোরে। গেইল সেঞ্চুরিসহ ১৪৬ রান আর ম্যাককালাম ৫১ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন। ঢাকার বোলাররা বার বার চেস্টা করেও এই জুটির ভাংগন ধরাতে পারেনি। ফলে বিপিএলের সর্বোচ্চ ২০১ রানের পার্টনাশীপ রেকর্ড গড়েই মাঠ ছাড়েন গেইল-ম্যাককালাম জুটি। অবশ্য দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেট হারানো দলটি ৭.৩ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ৫০ রান করলেও ১০ ওভার শেষে দলের স্কোর ছিল এই উইকেটে ৬৩ রান। হয়তো ব্যাট করতে নেমে প্রথম উইকেট হারানোর ধাক্কা সাামলে উঠতেই এই দুই ব্যাটসম্যান দেখে শুনে ব্যাট করছিলেন বলেই রানটা কম হয়েছিল। তবে ১০ ওভার পরেই ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেন ক্রিস গেইল। ৩৩ বলে প্রথম ফিফটি করা গেইল পরের ২৪ বলে করেন দ্বিতীয় ফিফটি। ফলে ৫৭ বলেই ১১ ছক্কা আর ৪ বাউন্ডারিতে করেন এবারের বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে খুলনার বিরুদ্ধে প্রথম সেঞ্চুরিসহ ১২৬ রান করেছিলেন গেইল। গতকাল গেইল নিজেই নিজের রেকর্ড ভেঙ্গে খেলেন বিপিএলের ১৪৬ রানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মাত্র ৬৯ বলে গেইল সেঞ্চুরিসহ ১৪৬ রান করতে খেলেছেন ১৮টি ছক্কা আর ৫টি চারের মার। খুলনার বিপক্ষে ১২৬ রানের ইনিংসে গেইল  খেলেছিলেন ১৪টি ছক্কা। গেইলের সেঞ্চুরির ম্যাচে অপর বিদেশী ম্যাককালামও খেলেছেন ফিফটি রানের ইনিংস। ৪৩ বলে ৪টি চার আর তিন ছক্কায় ম্যাককালাম করেন ৫১ রান। গতকাল রংপুরের পক্ষে গেইল-ম্যাককালাম জুটিই ২০১ রানের পার্টনাীপ গড়ে ঢাকাকে পিছনে ফেলে দেয়। অবশ্য এই জুটি ভাংগার সুযোগ যে ঢাকার বোলাররা পায়নি তা কিন্তু নয়। কিন্তু বাজে ফিল্ডিংয়ের কারনেই এই সফল জুািট ভাংতে পারেনি সাকিবের সতীর্থরা। ফলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে এসেই চারবারের ফাইনাল খেলা ঢাকাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। আর দু-দলের ব্যাটিংয়ের পার্থক্যটা গড়ে দেন ক্রিস গেইলই। অবশ্য দিনটি যদি গেইলের হয় তবে ম্যাচে কারো কিছু করার থাকেনা। এই আগে এলিমিনেটর ম্যাচে গেইল ঝড়ে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছে খুলনাকে। আর ফাইনাল ম্যাচে গেইলের সামনে পড়ে বোলিংয়ে অসহায় হয়ে পড়ে সাকিবের ঢাকা। তবে ফাইনাল ম্যাচটায় যে দর্শকরা রংপুরের ব্যাটিং পুরোপুরি উপভোগ করতে পেরেছে সেটাতো গেইলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারনেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
রংপুর রাইডার্স : ২০৬/১, ২০ ওভার
ঢাকা ডায়নাাইটস : ১৪৯/৯, ২০ ওভার
ফল : রংপুর রাইডার্স ৫৭ রানে জয়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ