রবিবার ২৯ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

জেরুসালেমকে ইসরাইলী রাজধানী করা সহজ হবে না --এরদোগান

 

১১ ডিসেম্বর, মিডল ইস্ট মনিটর : তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, ওআইসির বৈঠকের মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দেবো যে জেরুসালেমকে ইসরাইলী রাজধানী স্বীকৃতির বাস্তবিক প্রয়োগ সহজ হবে না। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ ডিসেম্বর জেরুসালেম ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ওআইসির নেতারা। ১৯৬৯ সালে গঠিত এই সংস্থাটিতে ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে।

বুধবার জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর নিন্দার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক মহল থেকে। উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক জোট।

সেই বিষয়ে আলোচনা করতে ওআইসির জরুরি বৈঠক এরদোগান। এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন তিনি। এরদোয়ান জানান, আমরা সবাইকে জানিয়েছি যে মার্কিন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি বা মানবিকতাকে সমর্থন করে না।

বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। আগামী১৩ ডিসেম্বর এ ইস্যুতে তুরস্কে ওআইসি’র জরুরি সম্মেলনের কথাও উল্লেখ করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, জেরুসালেম মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র শহর; এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ-এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে শনিবার মিসরের কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেছে আরব লিগও। তারাও মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। আরব লিগের মহাসচিবআবুলঘেইত বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং এটি ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

এদিকে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার জনগণ। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করছেন তারা। ফিলিস্তিন ছাড়িয়ে এই প্রতিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতেও। মার্কিন দূতাবাসকে ঘিরে বিক্ষোভ করছেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ