শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মৃত্যুর আগেই শয়নকক্ষের মেঝেয়  স্বামী-স্ত্রীর পাকা জোড়া কবর নির্মাণ

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামে কবিরাজ নজরুল ফকির (৬৫) মৃত্যুর আগেই শয়নকক্ষে ঘরের মেঝে খুঁড়ে স্বামী-স্ত্রীর জোড়া কবর নির্মাণ করেছে। স্বামী-স্ত্রীর জোড়া কবরের পাশেই বিছানা পেতে শুয়ে থাকছে ওই দম্পতি। চাঞ্চল্যেকর এই সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নারী-পুরুষেরা ভিড় জমাচ্ছে ওই জোড়া কবর দেখতে। 

জানা গেছে, আরামডাঙ্গা মাঝপাড়ার নজরুল ফকির এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসী জানিয়েছে, নজরুল ফকির প্রচার করছে আগামী ২৪ ডিসেম্বর তাদের মৃত্যু হবে, তাই তারা শয়নকক্ষে আগেভাগেই স্বামী-স্ত্রীর কবর নির্মাণ করেছে।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শয়নকক্ষে লোহার রড, খোয়া, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দিয়ে পাশাপাশি দুটি কবর নির্মাণ করা হয়েছে। আর কৌতূহলী শ’শ’ নারী-পুরুষ ওই কবর দেখতে নজরুলের বাড়িতে আসছে। নজরুল ফকির দীর্ঘ ২৮-২৯ বছর ধরে কবিরাজ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। 

কবিরাজ নজরুল ফকির জানান- তিনি এবং তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এনায়েতপুরী তরিকাপন্থি। স্বামী-স্ত্রী উভয় সাদা কাপড় ও হাতে দুই কেজি লোহার বালা পরে চলাফেরা করেন। এলাকায় যেখানেই (ন্যাড়া ফকিরদের) সাধু সংঘ অনুষ্ঠিত হয় সেখানেই তারা একসাথে যাতায়াত করেন। তরিকা গ্রহণের পর স্ত্রীকে ফেলে বাইরে কোথাও রাত কাটান না তিনি। শয়নকক্ষে  কবর কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরকালে যাতে সুখে-শান্তিতে একসাথে থাকতে পারি সেজন্যেই ঘরের মধ্যে আমরা পাশাপাশি দুজনের কবর নির্মাণ করছি। এ বিষয়ে আমার ৪ ছেলে, ৪ মেয়ে ও ভাইদেরকে বলে রেখেছি। যেখানেই মৃত্যু হোক না কেন আমাদের যেন ঘরের এ জোড়া কবরেই দাফন করে। বর্তমানে শয়ণকক্ষে কবরের পাশেই কোনো রকমে থাকছি। তবে আগামী ২৪ ডিসেম্বর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, মৃত্যুর দিনক্ষণ নির্ধারণের খবরটি সঠিক নয়। 

এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছে, এটা সম্পূর্ণ ইসলাম পরিপন্থি। নজরুল ফকিরের এই কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে।এর পেছনে নজরুল ফকিরের অন্য কোনো মতলব আছে কিনা তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা দরকার।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ