সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

পরোয়ানা থানায় ফাইলবন্দি দন্ডিতরা দলীয় কর্মসূচি ও ফেসবুকে সক্রিয়

স্টাফ রিপোর্টার : পুরান ঢাকার রাস্তায় নিরীহ পথচারী দর্জি দোকানী যুবক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের বিচার শেষে হাইকোর্টের রায়ও প্রকাশ হয়েছে। এ মামলার পলাতক ফাঁসির আসামী ও যাবজ্জীবন শাস্তি পাওয়া আসামীদের স্থায়ী ঠিকানায় গেছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। কিন্তু সেটা তামিল না হয়ে সংশ্নিষ্ট থানায় ফাইলবন্দিই পড়ে আছে। গত পাঁচ বছরে গ্রেফতার হয়নি পলাতক ১৩ আসামী। পুলিশের খাতায় তারা পলাতক থাকলেও অধিকাংশ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশ্বজিতের ক'জন স্বজন হতাশা প্রকাশ করে জানান, তারা গরিব। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ গ্রেফতার করছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পলাতক আসামীদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তারা নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচির ছবি। এসব কারণে সংশ্নিষ্ট থানা পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে মোটেও তৎপর নয়।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানেন, পলাতক বেশিরভাগ আসামী বিদেশে চলে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো তালিকা তৈরি করা হয়নি। বিদেশ গেলেও হত্যা মামলার আসামীদের ফিরিয়ে আনা কিংবা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির তৎপরতাও নেই। নেই আসামীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় মনিটরিং। পলাতক ক'জন আসামীর স্থায়ী ঠিকানার থানাগুলোতে যোগাযোগ করেও পাওয়া গেছে একই চিত্র।
বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ চলাকালে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ওই ঘটনায় গ্রেফতার আসামীদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, ককটেল নিক্ষেপকারী ভেবে নিরীহ-নির্দোষ ওই যুবকের ওপর হামলা চালানো হয়। গণমাধ্যমে সেই বীভৎস হত্যার ছবি প্রকাশ পেলে দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে সর্বস্তরের মানুষ খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানায়। তবে শুরু থেকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটনায় জড়িত কেউ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী নন, তারা অনুপ্রবেশকারী।
ঘটনার এক বছর পর ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আট আসামীকে মৃত্যুদন্ড ও ১৩ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন। রায়ে রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিয়া, রাজন তালুকদার ও মীর নূরে আলম লিমনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।
তবে চলতি বছরের ৬ আগস্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামীদের আপিলের শুনানির রায়ে হাইকোর্ট ওই আট আসামীর মধ্যে রাজন ও শাকিলের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন। সাইফুল ও কাইয়ুমকে খালাস ও অন্য চার আসামীর মৃত্যুদন্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়।
পাশাপাশি নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পাওয়া ১৩ আসামীর মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করা গোলাম মোস্তফা ও এএইচএম কিবরিয়া খালাস পান। অন্য ১১ আসামী ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ