বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সরকার ‘কু-রাজনীতি’ করছে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

# মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের আগেই ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে -ডা. জাফরুল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভ্রান্তি ছড়াতে সরকার ‘কু-রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক কল্যাণ পার্টির ১০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিদেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে ‘কথিত’ সম্পদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন তার জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এই খবর (খালেদা জিয়া ও তারেক বিদেশে সম্পদ) পাওয়ার পরে আমরা তন্ন তন্ন করে খুঁজছি সব জায়গায়। আমরা জিজ্ঞাসা করেছি রাষ্ট্রদূতদের এর কোনো ভিত্তি আছে কিনা, সত্যতা আছে কিনা। তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই, সত্যতার লেশ মাত্র নেই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে এই ধরণের মিথ্যাচার করে, এই ধরণের অপপ্রচার করে জনগনকে বিভ্রান্ত করে কী অর্জন করতে চান? এই কু-রাজনীতি করে কী আনতে চান? আপনারা নির্বাচন আবারো করতে চান ২০১৪ সালের মতোই, একতরফা একটা নির্বাচন। ২০ দলীয় জোট, বিএনপিকে দূরে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তাই তো শুরু করেছেন।
দলের সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নুরুল কবির ভুঁইয়া পিন্টুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্যের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা‘র সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, এনডিপি‘র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তজা, ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, কল্যাণ পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হাসান মাহমুদ, কাহির মাহমুদ, আজাদ মাহবুব, শাহজাদা আলম, মো. ইলিয়াস হোসেন, সহসভাপতি শাহিদুর রহমান তামান্না, নজরুল ইসলাম, বনি আমিন,ঢাকা মহানগর যুব কল্যাণ সভাপতি শরিফুল ইসলাম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী প্রেসিডিয়াম সদস্য ফোরকান ইবরাহিম, বিএনপির অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, অবসর প্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খানসহ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সেখানে সাংবাদিকদের একহাত নিলেন। খুব বকাঝকা করলেন। কী কারণে? বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের লোকজন নাকি সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশে ১২ বিলিয়ন সম্পদ আছে এমন খবর বেরুল কিন্তু আপনারা তা ছাপলেন না কেন? বলেছেন, বিএনপি কি রসগোল্লা মুখে দিয়ে দিছে আপনাদের, নাকি শপিংমলের শপিং কার্ড দিয়েছে? কিন্তু আমরা খবর শুনে সৌদি আরবে যোগাযোগ করেছি। যে এমন খবরের কোনো সত্যতা বা ভিত্তি আছে কি না? কিন্তু ভিত্তি নেই।
গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগ একসময় ত্যাগ স্বীকার করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘কিন্তু দুর্ভাগ্য এই দলটি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই ভিন্ন চেহারা প্রকাশ পায়। তা হলো ফ্যাসিস্ট চেহারা। আওয়ামী লীগই সব রাজনৈতিক দল বন্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। চারটি পত্রিকা রেখে বাকিসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। শুধু বিএনপি বা ২০ দল নয়, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটা কথা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ আর কখনোই ২০১৪ এর নির্বাচন হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন চাই, তবে অবশ্যই সেই নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আপনাদের অধীনে নয়। লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, নির্বাচনের জন্য সমতল ভুমি  তৈরি করতে হবে, নির্বাচনে সমান সুযোগ সমস্ত দলকে দিতে হবে। তাহলেই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আজকে আবারো বলছি যে, আপনাদের (সরকার) শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। বাংলাদেশে মানুষকে আন্ডার স্টিমেট করবেন না, সব কিছু যে সহ্য করে নেবে, সব কিছু যে মেনে নেবে- এটা মনে করবেন না। এই দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো, এই দেশের মানুষই ১৯৯০ সালে এরশাদ স্বৈরাচারকে হটিয়েছিলো।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুস্থ পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই, আমরা ভোটের অধিকারকে নিশ্চিত করতে চাই, সকল দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন করতে চাই। কোনো মতেই এমন শক্তির অধীনে নয়, যে শক্তি তার নির্বাচনকে তারা দখল করে নেবে না। আমরা বলেছি যে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার চাই।
কল্যাণ পার্টির ‘নিখোঁজ’ মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানের সন্ধান দাবিও করেন মির্জা ফখরুল। ফখরুল বলেন, অন্যদের কথা বাদ দেন, একটি পার্টির সাধারণ সম্পাদককে (আমিনুর রহমান) পর্যন্ত গুম হয়ে যেতে হলো কোনো খবর নেই। আজকে ৯৭দিন তিনি নিখোঁজ। একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতকে গাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরকম সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী, কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অসংখ্যক মানুষকে গুম করা হয়েছে। কোথায় যাবেন? এরা এভাবে ভিন্নমত যে পোষন করবে, তাদের মতের বাইরে যে যাবে, তাদের এই ক্ষমতায় যাওয়া যারা বাঁধা দেবে এভাবে তাদেরকে তারা (সরকার) গুম করে দেবে। সেই দলটিকে আমরা কী গণতান্ত্রিক দল বলতে পারি? এই দলটি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে অতীতে। যখনই তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় আসে তাদের আসল ফ্যাসিস্ট একনায়কের চেহারাটা পরিস্কার হয়ে ফুটে উঠে। গত ২৭ আগস্ট বিকেল থেকে এম এম আমিনুর রহমানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে আছেন বলে অভিযোগ তার দলের নেতাদের।
গণস্বাস্থ্যের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, নাকে খত দিয়ে আসে হবে। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে উনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন। এটা কী উনার বক্তব্য না উনি ভারতের দক্ষিন গোলার্ধ থেকে পাওয়া নির্দেশনা। এটা ভারতীয় নির্দেশনার বক্তব্য। আওয়ামী লীগ কি নিজেদের শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না না ভারতীয়রা কলকাঠি নাড়ছেন। সম্প্রতি রেহানাকে বলেছেন সুফিয়া এসছেন। সুফিয়ার মতো দক্ষিন গোলার্ধে সেই ভারতীয় রাজনীতিটা ‘র’ দেখছে যা তার চারিদিকে আছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির জন্য আন্দোলনই এক মাত্র পথ। অথচ প্রধানমন্ত্রী কথার জালে বিএনপিকে দিনে নয়াপল্টন এবং রাতে গুলশান অফিসে আটকে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার ফাঁদে পড়ে আন্দোলন ব্যাহত না করতে বিএনপিকে পরামর্শ দেন তিনি। জাফরুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছেন। বলেন, আপনি বলেছেন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আর হবে না, তাহলে ভয়টা কোথায়?। বিএনপি মহাসচিবকে জাফরুল্লাহ বলেন, আপনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি কোন বিচারকের কাছে বিচার চাইবেন, সেই বিচার বিভাগ ও বিচারকদের সেই বিবেক কি আছে?’ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তারা তো বিচারের আগেই ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, সরকার তার সকল ক্ষমতা নিয়ে নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয়, নিস্তেজ, স্তব্ধ করার জন্যে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রমূলক ও অষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপ করছে। আমরা যদি সাবধান না থাকি তাদের যেকোনো রকম দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপের মধ্যে পড়ে আমরা বিপদগামী হতে পারি। আমার আবেদন থাকবে, ধৈর্য্য, ধৈর্য্য, ধৈর্য্য। কোনো প্রকার তাদের উস্কানিমূলক কর্মকান্ডে আমরা পা দেবো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ