সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

অবৈধ ক্ষমতাকে ধরে রাখতে ভোটারবিহীন সরকার জুলুম-নির্যাতন ও সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নিয়েছে -খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী সরকারের কোন গণভিত্তি নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতাকে ধরে রাখতে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জুলুম-নির্যাতন ও সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে তার বাসা থেকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূলত দু:শাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদী নেতৃত্বকে ধ্বংস করতেই সরকার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করছে, আর তারই শিকার হলো আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে গ্রেফতার করা হলেও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা কেউ বিপর্যস্ত হবে না, বরং আরো বলীয়ান হয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন শাসকগোষ্ঠীর চলমান নিপীড়ণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরো বেশি প্রতিবাদী হয়ে উঠবে। সরকারের কোন গণভিত্তি নেই, তাই বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জুলুম-নির্যাতন ও সন্ত্রাসের আশ্রয়প্রার্থী। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আমি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
বাণী: এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে খালেদা জিয়া বলেন, জাতিসংঘ ১৯৫০ সালে ১০ ডিসেম্বরকে ‘মানবাধিকার দিবস’ ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর ‘মানবাধিকার দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবিক অধিকারহারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। যারা বাক, ব্যক্তি, চিন্তা, প্রার্থনা, মূদ্রণসহ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠির নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
খালেদা জিয়া বলেন, আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। জাতিসংঘের সার্বজনিন ঘোষণায় বলা হয়েছে বিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকেরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের উপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বোরোচিত আক্রমন। শুধুমাত্র ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে হয়, আর সেজন্য এই সকল গণবিরোধী শাসক গোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের ত্বোয়াক্কা করেনা। সুতরাং দুঃশাসনের অচলায়তন তৈরী করতে গিয়ে তারা প্রতিবাদি জনগণের উপর নামিয়ে আনে পৈশাচিক উৎপীড়ন। যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ নাগরিক সমাজের যেই হোকনা কেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাবাস, শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম, হত্যা ও গুমেরও শিকার হতে হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূণ্যের নিচে অবস্থান করছে। এদেশে শুধু মাত্র বিরোধীদলের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোই কোন নিরাপত্তা নাই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্ত হত্যা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে  কারান্তরীণও করে রাখা হয়েছে।
‘মানবাধিকার দিবস’ এর এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ড়ঁৎ ৎরমযঃং, ড়ঁৎ ভৎববফড়স; ধষধিুং। অর্থাৎ “আমাদের অধিকার, আমাদের স্বাধীনতা; সর্বদা”। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের না আছে নাগরিক স্বাধীনতা, না আছে মৌলিক মানবিক অধিকার। সুতরাং এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহূর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কন্ঠের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ