বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে শীতের শুরুতেই জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট

চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী গুড়ের হাট সরোজগঞ্জ বাজারের একটি খণ্ড চিত্র 

এফ.এ আলমগীর,চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরোজগঞ্জ বাজারের গুড়ের হাটে চলতি বছরের শীতে খেজুরের গুড় আমদানি ও রপ্তানি ব্যাপক হারে জমে উঠেছে। 

জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গার আশপাশের কয়েকটি জেলার মধ্যে সরোজগঞ্জ বাজারের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে চলে আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শীতের শুরুতেই জমে উঠেছে সরোজগঞ্জে খেজুর গুড়ের হাট। প্রতি হাটবারে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই সরোজগঞ্জ হাইস্কুল মাঠে গুড়ের ভাড় নিয়ে হাজির খেজুরের রস দিয়ে গুড় উৎপাদনকারী গাছিরা।

 গাছিরা এবছরে গুড় তৈরি করে হাটে বিক্রি করে আশানুরূপ মূল্য পেয়ে খুশি মনেই বাড়ি ফিরছে। বাজারে গুড় খুচরা কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার গুড় ভর্তি প্রতি ভাড় ৬৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতিতে সরোজগঞ্জের গুড়ের হাট এখন সরগরম। বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের গাছি মহাব্বত আলী জানালেন, এবছর খেজুর গুড় বিক্রি করে ভালো মূল্য পাওয়া যাচ্ছে। খাড়াগোদা গ্রামের গুড় বিক্রেতা রশিদ হোসেন বলেন, ভালো গুড়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। নি¤œমানের গুড় সরোজগঞ্জের হাটে তেমন চাহিদা নেই। দূরদুরান্ত থেকে গুড় কিনতে আসা ব্যাপারিরা সকাল হতেই গুড় কেনা নিয়ে শুরু করে হুড়োহুড়ি। প্রতি বছর শীত মওসুম এলেই সোম ও শুক্রবারের এটি যেন একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাড়ায় চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজারের। সরোজগঞ্জের এই গুড়ের বাজারকে কেন্দ্র করে বিরাট একটি মওসুমী খুচরা গুড় বিক্রেতাদের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। এবার বাজারে গুড় আমদানি বেশি হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাবসায়ীরা আসাই প্রভাব পড়েনি গুড়ের দর পতনে। উন্নতমানের গুড় প্রাপ্তির জন্য দেশের সর্বত্র সরোজগঞ্জের গুড়ের হাট দিনদিন জনপ্রিয় উঠেছে। হাট মালিক সূত্রে জানা গেছে, কঠোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য বাজারের গুড় কেনাবেচাই কোনো অনিয়ম হয় না। তবে খুচরা ক্রেতাদের দাবি, কিছু অসাধু গাছি গুড়ের মুখ সাদা করে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য গুড়ের সাথে ফিটকিরি ও চিনি মিশিয়ে বাজারে নিয়ে আসে। বর্তমানে মওসুমের শুরুতেই  হাটবারে ২ থেকে ৩ ট্রাক গুড় এই হাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হলেও ভরা মওসুমে সরোজগঞ্জ বাজারের এই হাটে প্রায় ৩০-৩৫ ট্রাক গুড় বিভিন্নজেলায় রপ্তানি হয়। ভালো মূল্য পাওয়ায় সরোজগঞ্জের আশপাশের গ্রামগুলোতে গাছিদের মধ্যে খেজুরের রস দিয়ে গুড় তৈরির তোড়জোড় লেগে গেছে। তবে খেজুর গাছের সংখ্যা বর্তমানে কমে যাওয়ায় সরোজগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী গুড়ের হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত গুড় ব্যবসায়ীরা।এ ব্যাপারে চাষিদের পরিত্যক্ত জমি কিংবা আইলে আইলে খেজুরগাছ লাগানো ও পরিচর্যার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদানে সরকারি কৃষি কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে অত্র এলাকার সচেতন সমাজ ও ব্যবসায়ীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ