বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা এক দফা (প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে বেতন-স্কেল নির্ধারণের) দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে এ দাবি সরকার মেনে না নিলে ২৩ ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনেশন শুরু করবে সহকারী শিক্ষক সংগঠনসমূহের জোট বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট।
মহাজোটর শিক্ষক নেতৃবৃন্দের ভাষায়, প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবি’তে উক্ত আল্টিমেটাম ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত  অনেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির সমর্থনে গতকাল দেশের একাধিক জেলায় সহকারী শিক্ষকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান শিক্ষক নেতারা। এ ছাড়াও আগামী ১৫ ডিসেম্বর সকল জেলা প্রেসক্লাবে একই ইস্যুতে স্থানীয় সহকারী শিক্ষক নেতারা সংবাদ সম্মেলন করবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা বিগত চার বছর ধরে আন্দোলন করার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, আমলাসহ নীতিনির্ধারক গণের দ্বারস্থ হওয়ার পরেও সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম  গ্রেড প্রদান করা হলে সহকারী শিক্ষকদের সাথে তাদের বেতন স্কেলের ব্যবধান হবে ৪ ধাপ। প্রধান শিক্ষকদের দশম  গ্রেড প্রদান আমরাও চাই। কিন্তু তার আগে সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল প্রদানের বিষয়টি সমাধান করতে হবে। তা না হলে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের চরম বেতন বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।
সহকারী শিক্ষক মহাজোটের শরীক সংগঠনগুলোর নেতারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতনস্কেল ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের বেতনস্কেল একই ছিল, তারপর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে ছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন। ২০০৬ সালের পর থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেলের ব্যবধান বাড়তে থাকে এবং ১ ধাপ থেকে হয়ে যায় ২ ধাপ। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ব্যবধান দাঁড়ায় ৩ ধাপে। একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেও প্রাধান শিক্ষক থেকে ৩ ধাপ নিচে বেতন পাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা। এই বৈষম্যের নিরসণ হওয়া জরুরি। এটাই আমাদের দাবি।
শিক্ষক নেতারা আরো বলেন, ১৬ বছর চাকরির পর একজন প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকের বেতনে ব্যাবধান হবে ভাতাসহ প্রায় বিশ হাজার টাকা। বর্তমানে এক জন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলে চাকরি শেষ করেন, যা সহকারী শিক্ষকদের জন্য চরম বৈষম্য ও হতাশার।
শিক্ষক নেতারা বলেন, একজন প্রাথমিক শিক্ষক যে পদে যোগদান করেন ঐ পদ থেকেই সাধারণত তাকে অবসর নিতে হয়। মাত্র ১৫ ভাগ সহকারী শিক্ষক চাকরি জীবনে একবার পদোন্নতি পান। সেটাও আবার স্ব-বেতনে। এই কারণে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চায় না এবং আসলেও থাকতে চায় না। এটা এখন মেধাবীদের একটা ট্রানজিট পেশায় পরিণত হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে প্রমোশন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে বন্ধ রয়েছে। যা সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালের বেতনস্কেলের মাধ্যমে শ্রেণি প্রথা বিলুপ্ত করা হলেও বাস্তবে তা এখনো বাতিল হয়নি। শিক্ষক নেতারা বলেন, এ সব বৈষম্যের অবসানের লক্ষ্যেই কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মহাজোটের শরীক সংগঠন জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহীনুর আকতার ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল-আমীন। প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি তপন কুমার মন্ডল।
সাংবাদিক সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক উজ্জল রায়। উপস্থিত ছিলেন, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া, সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, জোট নেতা মাসুম মিয়া, সাজ্জাদ খোশনবিশ তুহিন আক্তার, এখলাসুর রহমান, আব্দুর রউফ, শামীমা ইয়াসমীন, ইলিয়াস হোসেন, লুৎফুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ