রবিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

প্রধানমন্ত্রী দেশে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চান -ব্যারিস্টার মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চান। তিনি বলেন, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে মত প্রকাশ করেছেন তাতে মনে হয় যে, আগামী সংসদ নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ আর প্রয়োজন নাই। আর সেইজন্য কোন সংলাপেও প্রয়োজন নাই। দেশে নীতি-নৈতিকতাবিহীন একটি মিথ্যাচারের রাজনীতি চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীনরা সংলাপে না আসলে রাজপথে ফয়সালার হুমকি দেন ব্যারিস্টার মওদুদ।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস' উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
 মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনীতি একটা গতিশীল বিজ্ঞান। এই গতিশীলতা এমন একটা পর্যায়ে যাবে, তখন আপনারা সংলাপের আয়োজন করার জন্য বাধ্য হবেন। আর যদি না করেন, এর জবাব আপনারা রাজপথ থেকে পাবেন। সেই দাবি বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করবে।
গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন করে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান। অর্থাৎ বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার আর দরকার নাই এবং ভোট কেন্দ্রে আসার দরকার নেই। ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসার যে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনাটাই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি তার বক্তব্যে।
প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন একজন সরকার প্রধানের কাছে আমরা তা আশা করি না। দেশে নীতি-নৈতিকতা ছাড়াই রাজনীতি চলছে, মিথ্যাচারের রাজনীতি চলছে। তরুণদের আমরা মিথ্যাচারের সংস্কৃতি শেখাচ্ছি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে শুধু বিচার বিভাগ বেঁচে আছে। সামান্য অংশ পানির উপরে আছে, বাকিটা ডুবে গেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সরকার নিজেরাই নষ্ট করেছে। আমার জীবনে এর ভালো অবস্থা দেখে যেতে পারবো কি না জানা নেই।
জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মওদুদ বলেন, এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বলতে হবে, যত বড় রাষ্ট্র হোক না কেনো, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া আমরা মানি না, বাংলাদেশ মানবে না। এই কথাটা বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট করে ও আরো জোরেসোরে বলতে হবে। আজকে ওখানে শান্তির প্রক্রিয়া ধ্বংস করে দেয়া হলো। এটাকে প্রত্যাহার করতে হবে, এই বক্তব্যেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আসতে হবে-বলেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান দুদু বলেন, আগামী নির্বাচনে সহায়ক সরকারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন হবে যা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেই পারছেন না।
তিনি বলেন, আগামীতে যে আন্দোলন হবে সেটি বিএনপি বা ২০ দলের নয়, জনগণের আন্দোলন হবে। নির্বাচন হবে আমরাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। কিন্তু সেই নির্বাচনে আপনি (শেখ হাসিনা) সরকার প্রধান থাকতে পারবেন না।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সবকিছুই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রচিত হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন কোন কিছুই আন্দোলন ছাড়া অর্জিত হয়নি। সেই আন্দোলন ছাড়া আমরা চলমান সংকটের মীমাংসা চাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি একটা ভোটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, আমরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেই।
দুদু উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী আপনার মাথায় তো অনেক বুদ্ধি আপনি তো বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনার এত ভয় কিসের? আপনি তো অনেক উন্নয়ন করেছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে আপনার জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার জেল হবে কি হবে না এটা নিয়ে একটা আলোচনা আছে। আমরা কেউ কেউ মনে করছি জেল হয়ে গেলে দেশে তোলপাড় হয়ে যাবে। সরকারও এটা চিন্তা করে। আমরা রাস্তায় না নামলে তোলপাড় হবে কি করে? ফ্যাসিবাদের কাজ হচ্ছে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া। ফ্যাসিবাদের কৃতিত্ব আর যাই বলি তাদের কাজ হল মানুষকে ঘরের বাইরে না আনা। এটাকে ভাঙতে হবে। এই ভাঙতে পারা মানেই হলো নির্বাচনে জয়লাভ করা।
আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপি নেত্রী শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ