বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

‘আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার ট্রাম্প কে?’

৮ ডিসেম্বর, জেরুসালেম পোস্ট : এক আন্দোলনকারীকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এই বিক্ষোভ কবে শেষ হবে? তিনি জবাব দেন, 'এটাতো মাত্র শুরু। দিনে দিনে তা আরও বড় আকার ধারণ করবে।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতির ঘোষণা আঘাত হয়ে এলেও বৃহস্পতিবার তা জনপ্রিয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। শুরুতে পুরনো জেরুসালেমের দামেস্ক ফটকে নারীদের একটি ছোট দল প্রতিবাদ করছিলেন। দুপুরে তাতে যোগ দেন কয়েকশ নারী ও পুরুষ, সব বয়সের। প্রতিবাদ জানাতে থাকেন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের।

জেরুসালেমে আরব নেতাদের একমাত্র সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ছিল গত বৃহস্পতিবার হরতাল আহ্বান। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও হরতালের সমর্থনে বেশিরভাগ দোকান, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল সারাদিন। ফলে দামেস্ক ফটকের আশেপাশের দোকানের কর্মচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিদের জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি স্লোগান প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠে। এসব স্লোগানের মধ্যে ছিল, ‘রক্ত দিয়ে আল-আকসাকে মুক্ত করব’, ‘জেরুজালেমের পথে রয়েছে লাখো শহীদ’, ‘ট্রাম্প দেখো ফিলিস্তিন একদিন মুক্ত হবেই’, ‘আবু দিস নয়, আইজারিয়া নয়, জেরুজালেমই আমাদের রাজধানী’।

এক রাজনৈতিক দাউদ আবু-লিবদেহ জানান, পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিরা মনে করেন তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত সমাধানে চেষ্টা করছে, এমনটা মনে করাই ছিল আমাদের বোকামি। এখন নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে পরিস্থিতি। সংঘাতের সমাধানে এখন নতুন পক্ষ খুঁজতে হবে।

আবু-লিবদেহ জানান, অন্যদেশে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনও ক্ষমতা নেই এই শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার ট্রাম্প কে? আমরা, যারা এখানে বাস করছি শত বছর ধরে, তাদেরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।’

এই রাজনৈতিক কর্মী জানান, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়ে যে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের নীতি ছিল তা ভেস্তে যাবে। বলেন, এখন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের কোনও সুযোগ নেই বলে ভাবতে ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের, ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ