বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের বিরুদ্ধে অনড় চীন

৮ ডিসেম্বর, গ্লোবাল টাইম : নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে (এনএসজি) ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থানে রয়েছে চীন। গত বৃহস্পতিবার চীন বলেছে, ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন বা তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি যাতে ৪৮ সদস্যের এই অভিজাত নিউক্লিয়ার ক্লাবে নতুন সদস্য নেয়ার ব্যপারে সবাই একমত হবে।

৬ ডিসেম্বর রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই রিয়াবকভ নয়াদিল্লীতে বলেন, এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের ব্যাপারে চীনের সাথে কথা বলছে মস্কো। এ মন্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং জানান, ‘এ বিষয়ে চীনের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

 জেং বলেন, ‘এ বিষয়ে এনজিসি’র সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সরকার পর্যায়ে স্বচ্ছ ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সকলের ঐক্যমতের যে মূলনীতি, তাকে সমর্থন করে চীন।’

এনএসজি’র অন্যতম প্রধান সদস্য চীন বরাবর দৃঢ়ভাবে ভারতকে সদস্যপদ দেয়ার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের যুক্তি হলো নয়াদিল্লি পারমানবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশান ট্রিটি) স্বাক্ষর করেনি। চীনের বিরোধিতার কারণেই ভারতের সদস্যপদ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। কারণ এনএসজি কাজ করে ঐক্যমতের মূলনীতির ভিত্তিতে।

এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় চীনের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও বারবার হোচট খেয়েছে।

এই অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদের জন্য ভারত আবেদন করার পর, চীনের সবসময়ের মিত্র পাকিস্তানও বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থনের কথা মাথায় রেখে সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে।

পাকিস্তানী বিজ্ঞানী এ কিউ খানের বিরুদ্ধে পারমানবিক প্রযুক্তির মারাত্মক বিস্তার ঘটানোর অভিযোগ থাকলেও সদস্যপদের আবেদন জানিয়েছে পাকিস্তান।

রিয়াবকভ বলেছেন, আন্তর্জাতিক পারমানবিক নিয়ন্ত্রণকারী এই ফোরামে ভারতের সদস্যপদের পক্ষে রাশিয়ার অবস্থান অবিচল রয়েছে এবং মস্কো বিষয়টি নিয়ে চীনের সাথে কথা বলছে। রিয়াবকভের মন্তব্যের জবাবে জেং বলেন, এনএসজি’র সব সদস্যই নতুন সদস্যপদের আবেদন পক্ষপাতহীনভাবে সমাধানের জন্য একটি ‘দুই-ধাপের’ প্রক্রিয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যেটা সব নন-এনপিটি দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। তার ভিত্তিতেই দেশগুলোর আবেদন নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, যেসব দেশের কাছে কোনো পারমানবিক অস্ত্র নেই তাদের মতো যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু নন-এনপিটি দেশ এই ক্লাবে যোগ দিতে চান।

তিনি আরো বলেন, অথচ তারা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির (আইএইএ) কম্প্রিহেনসিভ সেইফগার্ড এগ্রিমেন্ট (সিএসএ)ও স্বাক্ষর করবে না, এনপিটির অধীনে যেটা বাধ্যতামূলক’।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে আমরা যদি এইসব আবেদনের ব্যপারে একমত হই, তাহলে দুটো পরিণতি অপেক্ষা করছে। প্রথমত, এতে নন-এনপিটি দেশগুলোর পারমানবিক অস্ত্রের স্বীকৃতি দেয়া হলো। দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশ যাদের পারমানবিক অস্ত্র নেই তারা আইএইএ’র সিএসএ চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার দাবিতে মামলা করে বসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এতে করে পুরো এনপিটি এবং পৃথিবীর পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত বিভিন্ন এলাকার চেহারাই উল্টে যাবে।’

চীন মনে করে, প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে এনএসজি এবং এ বিষয়ে সমাধানের জন্য আরো ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। এখানে এমন একটা সমাধান খুঁজতে হবে, যেটা সব পক্ষের জন্য প্রাসঙ্গিক হবে এবং যেটা পৃথিবীতে পারমানবিক অস্ত্রের বিস্তার বন্ধে সহায়ক হবে এবং এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা বড় ভূমিকা রাখছে এনপিটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ