রবিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

স্মরণকালের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

চট্টগ্রাম অফিস: নিত্যপণ্যের বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ কমছেই না। পেঁয়াজের লাগাম টেনে ধরতে পারছে না কেউ। বাজারে ঘাততির খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক হারে মুনাফা করছেন। তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গত প্রায় দু’মাস ধরে দেশি ও আমদানি পেঁয়াজ স্মরণকালের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন। গত মাসে ভারতীয় পেঁয়াজও দেশের বাজারে এসেছে। তারপরও পেঁয়াজের ঝাঁজ কমার লক্ষণ নেই। দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থিরতা কমাতে তুরস্ক থেকে এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ। এতে অস্থির থাকা পেঁয়াজের বাজার কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এ সময় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। টিসিবি’র তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা। আর এক বছর আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সে হিসেবে বছরের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। শতাংশের হিসেবে দাম বেড়েছে ১৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা। আর এক বছর আগে ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে। বছরের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধির এ হার ২০০ শতাংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। বছরে ২০ লাখ টন চাহিদা বিপরীতে দেশেই ১০ লাখ টনের উপরে উৎপাদন হয়। বাকি ১০ লাখ টনের মতো আমদানি করতে হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৭ লাখ ৯০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর বিপরীতে সেটেলমেন্ট হয়েছে ৮ লাখ ৬ হাজার টন। অর্থাৎ চলতি বছরে ইতোমধ্যে আমদানি করা ৮ লাখ ৬ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছেছে। এ ছাড়া বর্তমানে ৫ লাখ টনের মতো দেশি পেঁয়াজ মজুদ আছে।
আমদানিকারকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের মূলত চারটি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয় সবচেয়ে বেশি। বেনাপোল, ভোমড়া, হিলি ও সোনা মসজিদ স্থলবন্দরে আগের তুলনায় পেঁয়াজের সরবারহ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। আমদানি কম হওয়ায় আমদানিকারকও বাড়তি দামে পেঁয়াজ সরবরাহ করছেন।
দেশের বাজারে পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশি পেঁয়াজের ঘাটতি রয়েছে এবং ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমদানি খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি সময়ে টানা বৃষ্টিতে কিছু খেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা বিলম্বিত হচ্ছে। এসব কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।
এস আলম গ্রুপের গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক বিভাগ) মোহাম্মদ আক্তার হাসান বলেন, ভোগ্য পণ্যের সংকট মোকাবেলায় এর আগেও এস আলম গ্রুপ জরুরি ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করেছে। সরবরাহ ঘাটতিতে গত কয়েক মাস ধরে বাজার অস্থির থাকায় পেঁয়াজ আমদানির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এক লাখ টন পেঁয়াজের প্রথম চালান ১০ হাজার টন আগামী এক সপ্তাহ বা দশদিনের মধ্যেই আসবে চট্টগ্রাম বন্দরে।
নগরীর খাতুনগঞ্জের হামিদ উল্লাহ মার্কেট কাঁচাপণ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, চট্টগ্রামে পেঁয়াজের সরাসরি কোন আমদানিকারক ব্যবসায়ী নেই। দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাই পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। ভারতের সাউথ অঞ্চলে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফলন একেবারেই কমে গেছে। তাছাড়া নাসিকের পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ায় কিছু পণ্য আসলেও ভারতে রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের দাম কমছে না।
বিক্রেতাদের বক্তব্য, যে পর্যন্ত দেশি পেঁয়াজের নতুন ফলন বাজারে আসছে না। সে পর্যন্ত দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। চলতি মাসে বাজারে দেশি নতুন পেঁয়াজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে এর প্রভাব পড়লে পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে যাবে। তবে তখনও পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকতে হবে, নতুবা দাম না কমে উল্টো বেড়ে যাবে।
তবে দাম বাড়ার পিছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ি করেছেন ভোক্তারা। সিন্ডিকেটকে প্রতিরোধ করা না গেলে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমবে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে দাম কমবে বলে মত দিয়েছেন ক্রেতা সাধারণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ