বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

ভদ্রা নদী খনন কাজে দখলদার ভূমিহীনদের বাধা : একাংশে কাজ বন্ধ

খুলনা অফিস: ভদ্রা নদী খনন কাজ শুরু হলেও খুলনার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে কথিত ভূমিহীন দখলদারদের বাঁধায় নদী খনন কাজ একাংশে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অন্য এলাকায় অনেক ভূমিহীন পরিবার বিপুল পরিমাণে অর্থেও বিনিময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বরাদ্দ নেয়ার নামে দখর নেয়। তারা সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে। নদী খনন কাজ শুরু হওয়ায় তাদের বসত ঘর ভেঙ্গে অন্যত্রে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এককালের প্রমত্তা ভদ্রা নদী ভরাট হয়ে প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। ওই নদীর অবশিষ্ট কোন অংশ নেই যা দখলে নেই। ভদ্রা নদীর একাংশ সাগরের সাথে মিশেছে, অপর অংশটি ডুমুরিয়ার শোলগাতিয়ার বুড়ি ভদ্রায় গিয়ে মিশেছে। এছাড়া ডুমুরিয়া বাজারের কাছে ভদ্রা নদীর সংযোগ থেকে শৈলমারী নদীতে মিশেছে সালতা নদীটি। যা দু’টি নদী ভরাট হয়ে প্রভাবশালীদের দখলে গেছে। নব্বই দশকের পর থেকে ভদ্রা নদীটি ভরাট হতে থাকে। ভদ্রা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। নদী ভরাটের সাথে সাথে দখলদাররাও গ্রাস করে নেয়। ভদ্রার বুকে যে যার মত স্থাপনা গড়ে তুলেছে। নদীর বুকে সমতল ভুমিতে গড়ে উঠেছে রাইস মিল, স মিল, বাজার, বহুতল ভবনসহ নানা অবৈধ স্থাপনা। এছাড়া ভরাট নদীর বুকে সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পও গড়ে তুলেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ আটকিয়ে যত্রতত্রভাবে বেড়ি বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে দখলদাররা। যে কারণে ভারী বর্ষন নামলে এলাকায় জলাবদ্ধ সৃষ্টি হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি’র মোকাবেলায় নদী খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার একনেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। যা বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু এ নদী খনন নিয়ে একাধিকভাবে বাঁধা পড়ে দখলদারদের পক্ষ থেকে।
২০১৬ সালের পহেলা জুলাই হতে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে একটি অর্থ বছর পার হয়ে গেছে।
এসব বাঁধার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহে কাজ শুরু হয়েছে। যাহা আগামী ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। প্রায় ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নদী খনন প্রকল্পে ৯টি প্যাকেজে ৭ জন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ