বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাঁচ বছর ধরে রশি বাধা জীবন শিশু রাব্বীর

তোফায়েল হোসেন, সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) : পায়ে রশি বাধা জীবন নিয়ে প্রায় ৫ বছর ধরে শিশু রাব্বী এ পৃথিবীতে বেঁচে আছেন। বয়স আনুমানিক ১০ বছর। জন্মের ৪/৫ বছর পরেই রাব্বীর মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটে। এমতাবস্থায় সে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে মানুয়ের সাথে মারামারি করে বেড়াত। এ কারণে তার পরিবারের লোকজন মারামারি আর হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রাব্বীর পায়ে রশি বেঁধে রেখেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা দশলিয়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা নুরুন্নবী ও সাবানা বেগমের একমাত্র ছেলে রাব্বী। রাব্বীর বাবা নুরুন্নবী মিয়া বলেন ছেলেটি আবার মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই দিকবিদিক ছুটাছুটি করে লোকজনের সাথে সব সময় মারামারি করে বেড়াতো। এমন পরিস্থতিতে কখন কি ঘটায় কোথায় যায় এমন আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে রাব্বীর পায়ে রশি বেঁধে বাড়ীতে আটকে রেখেছি।
রশিতে বাধা শিশু রাব্বীর বৃদ্ধা ফুফু বলেন, মানুষ দেখলেই শুধু ছুটাছুটি করতে থাকেন। বর্তমানে মা না থাকায় রাব্বীকে তার ফুফু লালন পালন করছেন। তিনি অশ্রুসজল নয়নে বলেন পাগল হইলেও তো ভাইয়ের পোলা হেরে কোথায় ফালাইয়া দিমু। রাব্বীর মা বাপের বাড়ীতে যাওয়ার পর থেকেই খাওয়া নাওয়া সব কিছু দেখাশুনা এখন আমি করি। রাব্বীর চিকিৎসার ব্যাপারে জানতে চাইলে পিতা নুরুন্নবী হতাশাগ্রস্ত চিত্তে বলেন আমার তেমন কোন অর্থ সম্পদ নেই। তবুও একমাত্র ছেলে রাব্বীর চিকিৎসার জন্য সংসারের সহায় সম্বল বেচাকেনা করে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। এখন আমি সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব^। বর্তমানে অর্থাভাবে এখন ছেলের আর কোন চিকিৎসা করতে পারছিনা। এখন আমি নিরুপায়। তার আকুতি সরকারী ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পেলে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করতে পারতেন। তিনি ভারাক্রান্ত মনে বলেন একমাত্র ছেলেটিকে নিয়ে আমার অনেক আশা আর স্বপ্ন ছিল। ওকে নিয়েই আমার এ পৃথিবীতে বেঁেচ থাকা। সেই আশা আর স্বপ্ন আজ আমার যেন ধূলিস্যাৎ। ওর সমবয়সী ছেলে মেয়েরা যখন স্কুলে যায় তখন আমার বুকফাঁটা কান্না আসে। অন্য শিশুদের মত রাব্বীকেও লেখাপড়া শিখে উচ্চ শিক্ষিত করার সাধ ছিল। কিন্তু কখনও ভাবিনী আমার ভাগ্যে এই ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ