মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সাতক্ষীরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে ধুমপানকারীর সংখ্যা

রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) : সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নে সর্বত্রে এক যুগ পূর্বের তুলনায় বর্তমানে ধুমপানকারীর সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সরকারী বেসরকারী অফিস আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রকাশ্যে ধুমপান করছে। এছাড়া প্রশাসনের লোক যেমন, পুলিশ বিজিবিরা ও ধুমপান করছে।
বর্তমান সিগারেট ও বিড়ির খোলার গায়ে কোম্পানীরা ধুমপানের কারণে যে যোগ হয় তা ছবিসহকারে সতর্ক বানী প্রচার অব্যহত রেখেছে। এর ফলে ধুমপানকারীর সংখ্যা কমার কথা। কিন্তু কমা তো দূরের কথা, আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন সুশিল সমাজের মানুষেরা। শিক্ষিত চাকুরীজীবী লোকেরা যখন প্রকাশ্যে ধুমপান করে, তখন অশিক্ষিত লোকেরা আর বসে থাকে না। ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের সতর্কবাণী বিড়ি ও সিগারেট এর গায়ে লেখা থাকা সত্বেও তবু কেন ধূমপান? ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি এর পেছনের কারণ ও উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা প্রয়োজন। বয়সগত একটা কারণও এর পিছনে কাজ করে। তবে বন্ধুদের আড্ডায় মেতে ও প্রেমে ব্যর্থতার কারণে ধূমপানের প্রবণতা সমস্ত কারণের মধ্যে অন্যতম।
আমাদের দেশে ধূমপান নিষিদ্ধ আইন আছে; কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। এর পেছনে একটি কারণ বিরাজ করছে। সেটি হলো যারা এ আইন বাস্তবায়ন করবে তারা অধিকাংশ ধূমপানে অভ্যস্থ। শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও আসক্ত হচ্ছে ধূমপানে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন মেয়ের মধ্যে এই বদ অভ্যাসটি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত তারা এটাকে ফ্যাশন হিসেবে ধরে নেয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মহিলা পুরুষই চুরুট, বিড়ি, সিগারেট গুল, ইতাদি নেশায় অভ্যস্থ থাকে। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে বিড়ি ও গুলের নেশা বেশী দেখা যায়। বাবা ধূমপানে অভ্যস্ত তাই তাদের সন্তানরাও অতি অল্প বয়সেই ধূমপানের প্রতি নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, মানুষ সর্বাধিক পরিমাণ তামাক সেবন করে থাকে ধূমপানের মাধ্যমে। তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় চার হাজার রাসায়নিক উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা মানব দেহের ক্ষতিকর। এর মধ্যে দু’টি উপাদান সম্পর্কে কিছু তথ্য এখানে উল্লেখ করা হলো ঃ ১৮২৮ সালে তামাকে নিকোটিন নামক ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের সন্ধান পাওয়া যায়। দু’টি সিগারেটে যে পরিমাণ নিকোটিন থাকে তা যদি একজন মানুষকে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয় তা হলে তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন সিগারেট সেবনের পরও মানুষের মুত্যৃ না হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে নিকোটিনটুকু সে ইনজেকশানের মাধ্যমে গ্রহণ করেনা। ধূমপানের ফলে খুব অল্প পরিমাণ নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করে। পরিমাণে অল্প হওয়ায় এর ক্ষতিকর প্রভাবও খুব ধীর গতিতে প্রতিফলিত হতে থাকে এবং তা সহজে অনুভব করা যায় না। মানব দেহের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ওপরই এই নিকোটিনের প্রভাব সর্বগ্রাসী।
দেশে ধূমপান বিরোধী আইন পাশ আছে। কিন্তু বাস্তবায়নে রয়েছে দুর্বলতা। চলার পথে, ভ্যান-রিক্সারয়, বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে ধূমপান করতে দেখা যায়। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় পূর্বের তুলনায় বর্তমানে ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধূমপায়ীর শতকরা হার ৭০% থেকে ৮০%। জন সম্মুখে যাতে একজন ধূমপায়ী ধূমপান করতে না পারে তার জন্য সরকারের জোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ