বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

চকরিয়ার রামপুর মৌজার ২৫০ একর চিংড়ি জমি ফেরত দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ

শাহজালাল শাহেদ, চকরিয়া: আইনের শাসনে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হওয়ার খবরে চকরিয়ার ১০হাজার ভূমিহীন পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে অনাবিলভাবে। অবশেষে দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়ার বিচারে চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের রামপুর সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির মালিকানাধীন ২৫০ একর জায়গা ফেরত পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ভূমিহীনরা। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। গত ৩১অক্টোবর হাইর্কোটের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ সমিতির আপীল মামলার শুনানী শেষে এ আদেশ দেন। আদেশে আদালত বলেন, আদেশের অনুলিপির কপি জেলা প্রশাসন রিসিভ করার দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমিতির ওই জায়গা বাদিপক্ষকে ফেরত দিতে ব্যবস্থা নেবেন।
আদালত এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি লিখিতভাবে গত ২৩ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করেছেন সমিতির সভাপতি আবু জাফর। এদিকে দীর্ঘদিন পর সমিতির মালিকানাধীন ওই জায়গা আদালতের নির্দেশে ফেরত পেতে যাচ্ছে শুনে সমিতির অন্তত ১০ হাজার ভূমিহীন পরিবার সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সমিতির সভাপতি আবু জাফর বলেন, চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের রামপুর মৌজার আরএস ১০৮৪ ও ১১১১ অধীন ২০২৮ ও ২০২৯ বিএস দাগের প্রায় আড়াইশত একর জায়গা সমিতির সদস্যদের পৈতৃক সম্পত্তি। স্বাধীনতার পর থেকে সমিতির সদস্যরা উল্লেখিত জায়গা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় মহলের ইন্ধনে মৎস্য বিভাগ জায়গাসমূহ নানাভাবে দখলে নিতে অপচেষ্টা করে। এ ঘটনায় সমিতির প্রয়াত সভাপতি এসআই চৌধুরী বাদি হয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেন। পাল্টা মামলা করেন মৎস্য বিভাগও।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১২ সালে উল্লেখিত জায়গা সমিতির সদস্যদের পূর্ব পুরুষের (পৈত্রিক) সম্পত্তি এবং সিএস খতিয়ানমুলে সমিতির জায়গা এ ধরনের দলিল-দস্তাবেজ উপস্থাপন করে হাইকোর্টে সমিতির পক্ষ থেকে ফের একটি রিট মামলা (নং ১০৯৬২/১২) দায়ের করা হয়। আদালত মামলার শুনানী শেষে উল্লিখিত জায়গায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
সমিতির সভাপতি আবু জাফর অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের ৭ জুলাই জেলা মৎস্য বিভাগ ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সমিতির ওই জায়গা থেকে সদস্যদের উচ্ছেদ করে দেন। এ ঘটনার পর বিষয়টি অবগত করে সমিতির পক্ষে সম্পাদক শহীদুল ইসলাম লিটন বাদী হয়ে প্রশাসনের সংশিশ্লষ্ট ১৪ জন কর্মকর্তাকে বিবাদি করে ফের হাইকোর্টে একটি আদালত অবমাননা মামলা (নং ২৬১/১৭) দায়ের করেন।
ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের দ্বৈত বেঞ্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে আদালত অবমাননার কারণ জানতে চেয়ে আদালতে স্ব-শরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গতবছরের ২৫জুলাই কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আদালতে হাজির হয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমিতির ওই জায়গা থেকে বাদিপক্ষকে উচ্ছেদ করেন বলে সত্যতা নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি তিনি (ডিসি) একদিন পর জানতে পারেন বলে আদালতকে জানান। সর্বশেষ গত ৩১অক্টোবর ওই মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাশের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ সমিতির ওই জায়গা বাদিপক্ষকে ফেরত দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
আদেশে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ