মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১
Online Edition

আদমদীঘিতে ঘোড়ার গাড়ি এখন শখের বাহন

বগুড়ার আদমদীঘিতে বিলুপ্তি হওয়া ঘোড়ার গাড়ী আবারও পথ চলার বাহক হিসাবে রাস্তায় দেখতে পাওয়ায় উৎসুক যাত্রীদের ভিড়

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা : ঘোড়ার গাড়িতে কে না চড়তে চায়, ছোট-বড় সবারই প্রিয় এই গাড়ি। তখনকার বিশেষ এ গাড়িটি অনেকের কাছে ‘টমটম’ নামে বেশ পরিচিত ছিল। বর্তমান যুগে ঘোড়া গাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় আর চোখেই পড়ে এই বাহনগুলো। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে যানবাহনেরও। লোহা বা স্টিল দিয়ে যাত্রীদের বসার জায়গা তৈরি করে তার সঙ্গে চাকা লাগিয়ে তৈরি করা হয় এই গাড়িগুলো। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছোটআখিড়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম অনেকটা শখ করেই হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে পেতে চালু করেছে এই বাহন। প্রাচীনকাল থেকেই এই বাহনের কদর ছিল। এমনকি এর কথা, রূপকথা-উপকথার কল্পকাহিনীতেও আছে- যা ঐতিহ্যের অংশ। এক সময় শহর ও দেশের গ্রামাঞ্চলে এই ঘোড়ার গাড়িই ছিল যাতায়াতের অন্যতম বাহন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দেখা না গেলেও বিশেষ করে বগুড়ার আদমদীঘিতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই বাহন পুনরায় চালু হওয়ায় অনেকেই এক নজর দেখার জন্য ভির জমাচ্ছে। 

জানা যায়, ইংরেজ শাসন আমলে ১৮৫৬ সাল থেকে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। সিরকো নামীয় একজন আর্মেনীয় প্রথম ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন করেন, যা তখন ‘ঠেলা গাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে অনেক যাত্রী শখ করে আদমদীঘি হইতে সান্তাহার, ছাতিয়ানগ্রাম, মুরইল সহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য এই ঘোড়ার গাড়িতে চড়ছে। আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এই ঘোড়ার গাড়িকে দেখা হয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে। একটি ঘোড়ার গাড়িতে ৮ থেকে ১০ জন যাত্রী বহন করে থাকে, যা ঘোড়ার ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। আগের দিনে অনেকে বিয়ের অনুষ্ঠানেও শখ করে পালকির পরিবর্তে এই গাড়িতে চড়ে কনের বাড়ি যেতেন। 

ঘোড়ার গাড়ির যাত্রী আনোয়ার ও সবুর খানের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঐতিহ্যের বাহন হওয়ায় শখের বশে ঘোড়ার গাড়িতে উঠে আদমদীঘির পশ্চিম বাজার ব্রীজের মোড় থেকে একটু ঘুরে আসলাম বেশ ভালই লাগলো। তারা আরোও বলেন, নতুন প্রজন্মকে হারানো ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং হারানো ঐতিহ্যকে ফিরে পেতে এই বাহন এলাকায় বেশ প্রয়োজন। 

ঘোড়া গাড়ির মালিক রেজাউল ইসলাম জানান, আমি পাকিস্তান আমল থেকেই এই ঘোড়া গাড়ি চালায়। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ার এই যুগে এখন আর কেউ ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে চায় না। তাই মাঝ খানে কয়েক বছর আমি বেবি ট্যাক্সি ও পরে সিএনজি চালিয়ে সংসার চালিয়েছি। কিন্তু ভাড়ার গাড়ি চালিয়ে কোন লাভ হয় না বলেই ঘরে বসে না থেকে জীবিকার তাগিদে এই ঘোড়া গাড়ি বানিয়ে এবং হারানো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে পুনরায় এলাকায় এ বাহন চালু করেছি। তবে আমার ঘোড়া এখনো পুরোপুরি প্রশিক্ষিত নন। পুরোপুরি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০শ টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। তিনি আরোও জানান, আগের তুলনায় এখন ঘোড়ার খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। ঘোড়ার খাবারের মধ্যে গম, ছোলা, ভুষির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ঘোড়ার পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। তারপরেও শখের এই প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক আমাদের উপজেলায় পুনরায় চালু হরে হারানো ঐতিহ্য ফেরে পাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ