সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সারা দেশে আয় কর দিবস পালিত

 স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে আয় কর দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল আয়কর সপ্তাহের  শেষ দিন এবং ব্যক্তি  শ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিলের  শেষ দিন ছিল। সারাদেশে আয়কর দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হয়েছে।

রিটার্ন দাখিলের  শেষ দিন হওয়ায় কর অঞ্চলে রিটার্ন দাখিল ও করসেবা নিতে সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের করদাতারা ভিড় করে বলে কর অঞ্চলগুলো জানিয়েছে।

শেষ দিনে রিটার্ন দাখিল ও আয়কর প্রদানের সুবিধার্থে যতক্ষণ পর্যন্ত করদাতা রিটার্ন দাখিল করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত কর অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

কর অঞ্চল-১০ রিটার্ন দাখিল করতে আসা আসাদুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক অর্থসূচককে বলেন, গত দুইদিন ধরে চেষ্টা করছি কর সপ্তাহে রিটার্ন দেব। ব্যস্ততার কারণে আসতে পারিনি। আজকে এসে দেখি ব্যাপক ভিড়। রিটার্ন পূরণ ও টাকা জমা দিতে খুবই কষ্ট হয়েছে। কষ্ট হলেও ভালো লাগছে সবার সঙ্গে উৎসব করে রিটার্ন দাখিল করতে পেরেছি।

কর অঞ্চল-১০ ঘুরে দেখা যায়, রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইএন বুথসহ সকল বুথে করদাতাদের ব্যাপক ভিড়। বিশেষ করে রিটার্ন পূরণে করদাতারা বেশি ব্যস্ত। সাজানো গোছানো প্রতিটি বুথে করসেবা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মকর্তারা।

কর অঞ্চল-১০ এর একজন উপকর কমিশনার বলেন, গতবছর শেষ দিন প্রায় ১২টা পর্যন্ত রিটার্ন পড়েছে। যেভাবে করদাতারা আসছে তাতে এবার হয়ত আরো বেশি সময় থাকতে হবে। তবে যতক্ষণ করদাতা বুথে থাকবে ততক্ষণ সেবা দেওয়া হবে। রিটার্ন এর সঙ্গে সময় বৃদ্ধির আবেদনও পড়ছে।

কর অঞ্চল-১৩ রিটার্ন জমা দিতে আসা একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবছর আমি শেষদিনে রিটার্ন জমা দিই। কারণ শেষদিন প্রচুর ভিড় থাকে। উৎসবের মতো মনে হয়। মনিটরিং বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন সেবা অব্যাহত থাকলে করদাতার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

কর অঞ্চল-১৩ এর একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের চেয়ে রিটার্ন সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রিটার্ন পূরণসহ যেকোন সেবা প্রদানে কর্মকর্তারা খুবই আন্তরিক। আজ এত ভিড়, তবুও কোন করদাতারা বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই। প্রতিটি বুথে প্রচুর ভিড় রয়েছে, এ ভিড় গভীর রাত পর্যন্ত থাকবে।

কর অঞ্চল-১২ এর একজন কর্মকর্তা বলেন, শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই করদাতারা ভিড় করছেন। শেষ দিনে সেবা দিতে যাতে হিমশিম খেতে না হয় সেজন্য আগেই থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সেজন্য এবার রিটার্ন দাখিল, সেবা গ্রহণ আর আয়কর আহরণের হার গতবছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আমরা কঠোরভাবে মনিটরিং করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত করদাতা আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সেবা দেব।

কর অঞ্চল-৩ রিটার্ন দাখিল করতে আসা মোজাম্মেল হোসেন নামে একজন করদাতা বলেন, মেলায় ভিড় হবে দেখে কর অঞ্চলে আসলাম। কর অঞ্চলে দেখি মেলার চেয়ে বেশি ভিড়। এ ভিড় প্রমাণ করে কর প্রদানে মানুষ কত সচেতন হয়েছে। সুন্দর পরিবেশে কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা করছে। তবে মেলার সময় একটু বাড়ানো উচিত ছিল।

কয়েকটি কর অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, করদাতারা বুথে জায়গা না পেয়ে নিচে বসে রিটার্ন পূরণ করছেন। তবে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কর্মকর্তাদের মনোভাব অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এবার তরুণ ও মহিলা করদাতার সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। কর কমিশনার, এনবিআর কর্মকর্তা ও এনবিআর সদস্যরা সেবা মনিটরিং করছেন। বুধবার পর্যন্ত রিটার্ন পড়েছে ১০ লাখ ৫৮ হাজার। যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি। আজ এ সংখ্যা প্রায় ১৮-২০ লাখ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরে কর অঞ্চল ও কর অফিসে করদাতাদের ভিড় রয়েছে বলে জানা গেছে। করদাতা থাকা পর্যন্ত কর অফিস খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ