সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনা জেলা বিএনপি নেতা সরদার মিঠু হত্যার  রহস্য উদঘাটন হলেও চার্জশীটে বিলম্ব!

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হলে চার্জশীট দিতে বিলম্ব করছে পুলিশ। একই ঘটনায় নিহত দেহরক্ষী নওশের আলীর ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়াকে এ বিলম্বের কারণ বলে জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা। 

খুলনার চাঞ্চল্যকর ডবল মার্ডার এ মামলাটিতে চারজন জেলহাজতে থাকলেও অর্থদাতাসহ তিন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মুন্সী জানান, নিহত মিঠুর মরদেহের ময়না তদন্ত রিপোর্টটি পেয়েছিলাম বেশ দ্রুত। 

কিন্তু একই ঘটনায় নিহত তার দেহরক্ষী নওশের আলীর মরদেহের ময়না তদন্তের রিপোর্টটি সোনাডাঙ্গা থানা হয়ে এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। সে জন্য একটু বিলম্ব হচ্ছে। 

তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, ওই ময়না তদন্তের রিপোর্টটি পেলে চার্জশীট প্রস্তুত করা হবে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত একাধিক আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। এ মামলায় জেলহাজতে রয়েছে হাসানাত রিজভী মার্শাল, শিমুল হাওলাদার, রিফাত ও রনি, আর পলাতক রয়েছেন ড. মামুন রহমান, পিটপিটে সুমন ও শিমুল ভূঁইয়া। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানিয়েছেন, এ ডবল হত্যাকান্ডে ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হাসানাত রিজভী মার্শাল ভূঁইয়া ও মুশফিকুর এ দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

গত ৩০ মে খুলনা রেঞ্জ কার্যালয়ে ডিআইজি দিদার আহমেদ প্রেসব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মামুন রহমান ত্রিশ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে কিলার দিয়ে ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুকে হত্যা করিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ও শত্রুপক্ষের পারিবারিক পূর্ব শত্রুতাকে কাজে লাগিয়ে এ কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ডিআইজি।

উল্লেখ্য, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র পোশাক পরিহিত সশস্ত্র স্যুটাররা গত ২৫ মে রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার দামোদর এলাকায় মিঠু’র অফিসে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সাথে থাকা  দেহরক্ষী নওশের আলী গাজী (৫০)-কেও গুলি করে হত্যা করে তারা। এঘটনায় ২৭ মে নিহতের ছোট ভাই মো. রাজ সরদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন (নং-২৯)। 

নিহত মিঠুর পিতা দামোদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আবুল কাশেম ১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট এবং ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট মিঠু’র বড় ভাই একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ