শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

প্রসূতিকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লার হোমনায় যমজ সন্তানের একটিকে গর্ভে রেখেই অস্ত্রপাচার শেষ করার ঘটনায় প্রসূতিকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে স্থানীয় লাইফ হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক শেখ হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ মেডিকেল আন্ড ডেনটাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএমডিসির ব্যবস্থা নেয়ার আগে ওই চিকিৎসককে অস্ত্রপাচার করা (অপারেশন) থেকে বিরত থাকতে বলেছেন আদালত। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লাইফ হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম এবং হাসপাতালের মালিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, হাসপাতালের মালিকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আবদুল মতিন খসরু। চিকিৎসক হোসনে আরা বেগমের পক্ষে ছিলেন এ কিউ এম সোহেল রানা। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী এটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
গত ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গর্বে সন্তান রেখে অস্ত্রপচার করার ঘটনায় চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম, হাসপাতালের মালিক ও কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে তলব করে। এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালত এই তলব আদেশ দেন। আদালতে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন।
এরমধ্যে গত ১৬ নবেম্বর আদালতে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে কুমিল্লার সিভিল সার্জন জমজ সন্তানের একজনকে পেটে রেখে অস্ত্রপচারের ঘটনায় চিকিৎসক হোসনে আরাকে দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, সন্তান প্রসবের আগে ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত যমজ দুই সন্তান জীবিত ছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আউয়াল হোসেনের স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে (২২) দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনে অংশ নেন-দাউদকান্দির বিটেশ্বর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে প্রেষণে থাকা মালিগাঁও ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. হোসনে আরা বেগম। অপারেশনে এনেসথেসিয়া প্রয়োগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুরুল আলম।
প্রসূতি খাদিজা আক্তারের মা আমেনা বেগম জানান, তার মেয়ের গর্ভে ২টি সন্তান থাকলেও সিজারে ১টি সন্তান বের করে অপরটি টিউমার বলে অপারেশন সমাপ্ত করেন ডা. হোসনে আরাসহ থিয়েটারে থাকা অন্যরা। পরবর্তীতে বাড়িতে যাওয়ার পর দীর্ঘ এক মাস পেটে ব্যথা অনুভব করেন খাদিজা আক্তার।
এ নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যান তিনি। এ সময় তার পেটে অনেক ব্যথা ছিল। পরে ওই প্রসূতি হোমনা উপজেলা সদরের একটি ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাফি করার পর জানতে পারেন তার পেটে টিউমার নয়, আরও একটি মৃত সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে এ ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়া হয়। গৌরীপুরের ‘লাইফ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের’ কোনো সরকারি অনুমোদন ছিল না। এক বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই এটি চালানো হচ্ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ