সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ নেই উৎপাদনে পিছিয়ে ৫২ ভাগ কারখানা

স্টাফ রিপোর্টার : চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ পাচ্ছে না দেশের ৫২ শতাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তারা শুধুমাত্র জ্বালানির সংকটের কারণে তারা কাক্সিক্ষত উৎপাদ করতে পারছে না। এতে উৎপাদনে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে এসব প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি জাতিসংঘের অধিনস্থ বাণিজ্য ও উন্নয়ণ বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স অব ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইউএনসিটিএডি’র প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সীমাবদ্ধতাই হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব। ইউএনসিটিএডি’র প্রতিবেদনে ‘লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) রিপোর্ট-২০১৭’-এই তথ্যই বেশি আলোচিত হয়েছে। এলডিসি’র প্রতিবেদনটি’র মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ট্রান্সফর্মেশনাল এনার্জি অ্যাকসেস’ বা রূপান্তরমূলক জ্বালানি প্রাপ্যতা। ২০১৪ সালের পরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সুবিধার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়। জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ৪২ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান মনে করে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের প্রধান সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্র হলো বিদ্যুৎ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ হার ৫২ শতাংশ।
অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যুতের সরবরাহজনিত সীমাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাবগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বাণিজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোই বিদ্যুৎ অব্যবস্থাপনার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিযোগীদের চেয়ে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর ফলে প্রতিযোগিতায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে স্বল্পোন্নত দেশগুলো।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়াই তাদের জন্য প্রধান সীমাবদ্ধতা। কম্বোডিয়ার ৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এমন মত দিয়েছে। নেপালের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ১২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল ও ভুটান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে এলডিসিগুলোকে প্রতি বছর সাড়ে তিনগুণ হারে বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ সংযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। বাকি ৪৯ শতাংশের বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা নেই। আবার শহুরে জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশের বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা রয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের ৬০ শতাংশ অঞ্চল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা এশিয়ার নয়টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এ দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ যেমন লাগবে, তেমনি বিদেশী বিনিয়োগও চাই। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে সহায়তাও দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ