সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

শরণার্থীদের সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতী’ সীমান্ত ভূমধ্যসাগর: জাতিসংঘ

লিবিয়া উপকূলে ভেসে আসা এক হতভাগা শরণার্থীর লাশ             -মিডল ইস্ট মনিটর

২৬ নবেম্বর, মিডল ইস্ট মনিটর, বিবিসি : ভূমধ্যসাগরকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক সীমান্ত বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, চলতি বছর ইউরোপে যাওয়ার আশায় পাড়ি দিয়ে এই সীমান্ত ৩৩ হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন। গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪-১৬ সাল পর্যন্ত তুরস্ককে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসী ঢল সামলেছে। গ্রিস থেকে লিবিয়া উপকূল হয়ে আসা এই শরণার্থী ঢলের স্রোত এখন কিছুটা কম।

ফ্রোরেন্সের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফিলিপ ফার্গেস বলেন, এই সংখ্যায় আসলে অভিবাসীদের প্রকৃত দুর্দশা পরিমাপ করা যাবে না। তিনি বলেন, ২০০০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অন্তত ৩৩ হাজার ৭৬১ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে আইওমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যা বিশ্বের যেকোনও সীমান্তেই সর্বোচ্চ।’

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬১ হাজার অভিবাসী সাগরপাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছেছে। এরমধ্যে ৭৫ শতাংশই ইতালি, গ্রিস, সাইপ্রাস ও স্পেনে আশ্রয় নিয়েছে। আর প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার।

ফার্গেস বলেন, ‘আগের সংক্ষিপ্ত এবং কম বিপজ্জনক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছে তারা। আর তাতে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।''

২০১৫ সালে ইউরোপে এভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি৷ সেবছর যুদ্ধ এবং দরিদ্রতা থেকে বাঁচতে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক মানুষ সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ করে৷ জার্মানি তখন প্রায় নয়লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। 

এদিকে লিবিয়া উপকূলে একটি অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকাডুবে শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০জনকে  জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে তারা ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকটি নৌকা ছিলো। ওই নৌকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪০ জনকে।

গত কিছুদিনে এই সীমান্ত অনেকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৫০ জনকে উদ্ধার করে লিবীয় কোস্টগার্ড। এর আগের মঙ্গলবার ১১০০ জনকে উদ্ধার করে ইতালির কোস্টগার্ড।

লিবিয়া কোস্টগার্ডের কর্নেল আবু আজালা আবদেল বারি বলেন, প্রথম নৌকাটি আমরা পৌঁছানোর পূর্বেই ডুবে গেছে। ওখানে যাওয়ার পর আরেকটি নৌকা ধরে অনেককে ঝুলে থাকতে দেখি আমরা। কিন্তু বাকিরা মারা যায়।

উদ্ধারকৃত সবাইকে লিবিয়ায় নৌবাহিনীর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় অন্যান্য উদ্ধার অভিযান চলছিলো বলে জানিয়েছে ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ