শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তাড়াশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সচেতনতামূলক সভা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী সচেতনতামূলক সভা থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার সকালে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর রহমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থানা পুলিশ এ সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন তাড়াশ থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি গাজী এস.এম. আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সিরাজগঞ্জ ডিএসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শরাফত ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের এস.আই (সিপিওি) মো. আয়নাল হক, তাড়াশ থানা ওসি (তদন্ত) মো. ফজলে আশিক, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলেম উদ্দিন প্রমুখ।
নির্যাতনের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে নাজিমুদ্দিন (২৯) নামে এক প্রতিবন্ধীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দালাল ও কবিরাজের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের রাশিদুল হাসানের ছেলে। মৃগীরোগ জনিত প্রতিবন্ধিতার চিকিৎসার নামে শারীরিক নির্যাতনের পর হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লক্ষাধিক টাকা।
ভুক্তভোগী রাশিদুল হাসান ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, নাজিমুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মৃগীরোগ জনিত প্রতিবন্ধিতায় ভুগছিলেন। কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে স্স্থু করার কথা বলে তাদের গ্রামের এক দালাল ও কবিরাজ ওই প্রতিবন্ধীকে সুস্থ্য করার জন্য  বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায় তালোরা গ্রামে কবিরাজ মওলানা আবু বক্কারের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ১ মাস আটকে রেখে চিকিৎসা করানোর নামে তাকে বিভিন্ন সময় ব্যাপক শারিরীক নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে ওই প্রতিবন্ধীর বাবা-মা খবর পেয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
প্রতিবন্ধী নাজিমুদ্দিনের বাবা রাশিদুল হাসান আরো অভিযোগ করেন, তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে সুস্থ করার নামে বিভিন্ন সময়ে কবিরাজ মওলানা আবু বক্কার ও কবিরাজের দালাল প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার ছেলেকে জ্বীন ছাড়ানোর নাম করে ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে যাতে করে তিনি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।
এদিকে কবিরাজ আবু বক্কার সিদ্দিকের (০১৭৩৫-৯৩৭২৯১) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবন্ধীকে শারীরিক নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি জ্বীন ছাড়ানোর জন্য শুধু ঝাঁড় ফুক করেছি। আর সামান্য টাকা পেয়েছি। হয়তো দালাল আমার অজান্তে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তাড়াশ থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি মো. মনজুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ