শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাঘায় প্রার্থী চূড়ান্ত বিএনপি-জামায়াতের আ’লীগ অপেক্ষায়

রাজশাহী অফিস : আগামী ২৮ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার রাতে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। দলের দু’জন প্রার্থী সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাক ও পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনকে একত্রিত করে আবদুর রাজ্জাক’কে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বাঘা পৌর জামায়াতে আমীর প্রভাষক সাইফুল ইসলাম এর মাধ্যমে মনোনয়ন উত্তোলন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
বাঘা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ থেকে ৮ জন এবং বিএনপি থেকে ৪ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য দৌড়-ঝাপ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি দু’জন প্রার্থী সাবেক বাঘা পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক ও পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনকে ঢাকায় একত্রিত করে সমঝতার মাধ্যমে আবদুর রাজ্জাক’কে দলীয় মনোনয়ন দেন। অপর দিকে স্থানীয় এমপি’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে বাঘা পৌর কমিটি ৩ জন প্রার্থীর নামে কেন্দ্রে পাঠায়। এরা হলেন, বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্কাস আলী, বাঘা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক বাবুল ইসলাম এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন। অপরদিকে জেলা থেকে আমানুল হাসান দুদুর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তাদের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত মোট ৫৯ জন মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে চারজন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। অবশিষ্ট ৫৫ জন কাউন্সিলর পদে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৭৮৯ জন। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৭ নবেম্বর ।
সৎ মেয়েকে ধর্ষণের
মামলায় সৎ বাবার
যাবজ্জীবন
সৎ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে রাজশাহীতে নবাব আলী ওরফে লোবা (৩৭) নামে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মনসুর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি নবাব আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ না করলে আরো ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে তাকে। নবাব আলী রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চন্দনমাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আশরাফ আলী। জেলা জজ আদালতের পরিদর্শক খুরশিদা বানু কনা জানান, মামলার বাদী ১৪ বছরের কিশোরী। সম্পর্কে সে নবাব আলীর সৎ মেয়ে। আপন বাবা মারা যাওয়ার পর তার মায়ের সঙ্গে নবাব আলীর বিয়ে হয়। ২০১১ সালে নবাব তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। এরপর তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর মেয়েটি তার নানিকে জানায়। তবে মেয়ের সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন। এ ঘটনার সাত মাস পর ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নবাব তার স্ত্রীকে জুসের সঙ্গে মিশিয়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাতে আবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ জুলাই মেয়েটি বাদী হয়ে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। ঘটনা জানার পরেও গোপন করার চেষ্টা করার অভিযোগে ওই মামলায় তার নানিকেও আসামী করা হয়। তবে আদালত তার নানিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে সৎ বাবার হাতে মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন আদালত। আসামী নবাব আলীর উপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী ইসমত আরা। আর আসামীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী খায়রুন্নাহার কাজল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ