সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফ্রান্সে বাংলাদেশীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছে

প্যারিস থেকে মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী : সম্প্রতি প্যারিসে ইউনেস্কো'’র আমন্ত্রণে ইউনেস্কো'’র ৩৯তম সাধারণ অধিবেশনে এসে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর সঙ্গে প্যারিসের রাস্তাঘাটে ও পথে পথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফ্রান্সে বিভিন্ন শহরে বৈধ-অবৈধ প্রায় ৩০/৪০ হাজার বাংলাদেশী বিশেষ করে হোটেল রেস্টুরেন্টে কর্মরত রয়েছে। তা ছাড়াও অনেক বাংলাদেশী প্যারিসের রাস্তায় ও মেট্রোর যাত্রাপথে ফলমূল ও খেলনা বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে এখনও অনেক তরুণ বাংলাদেশী বেকার। রাস্তাঘাটে রসুন ও সিগারেটও ধনে পাতা বিক্রি করছে। বৈধদের জন্য ফ্রান্সে কাজ পাওয়া তেমন কঠিন নয় তবে অবৈধদের জন্য এবং ভাষা না জানা বাংলাদেশীদের জন্য কাজ পাওয়া বড়ই কষ্টকর। ফ্রান্সে এখন রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া দুষ্কর এবং সহজে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া কষ্টকর। বহু বাংলাদেশী তরুণ বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার আশায় যুগ যুগ ধরে ফ্রান্সে অবস্থান করছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। বিদেশীদের জন্য দিন দিন ফরাসি আইন কঠোর থেকে কঠোরতর হতে চলছে। এ অবস্থায় ফ্রান্সে বাংলাদেশীরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছে। এরপর ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের তেমন কোনো যোগসূত্র না থাকার কারণে এখানকার বাংলাদেশীরা তাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ একমাত্র হুন্ডি ছাড়া দেশে বৈধভাবে পাঠাতে পারে না। প্রায়ই হুন্ডির মাধ্যমে তাদের টাকা পয়সা খোয়া গিয়ে থাকে বিধায় তারা ওয়েস্টার ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা পাঠালেও তা আবার মুসলিম নাম থাকলে সে অর্থ দিনের পর দিন আটক রাখার জন্য বিড়ম্বনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে এবং ইংল্যান্ডে বোমা হামলার কারণে ফ্রান্সে অবস্থিত  বাংলাদেশীদের এখন ফরাসিরা ভালো চোখে দেখছে না। বাংলাদেশীদের বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ দূর করার জন্য অবিলম্বে প্যারিসে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের শাখা খোলা উচিত। এতে বৈধভাবে বহু রেমিটেন্স দেশে পাঠানো সম্ভব হবে এবং দেশ এতে উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে ফ্রান্সে প্রবাসী রুহুল আমিন (আবদুল্লাহ) আক্ষেপের সঙ্গে বহুদিনের দাবি ফ্রান্স থেকে বৈধভাবে রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোর ব্যাপারে সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাসের অবহেলাকে দায়ী করেন। এখানকার বাংলাদেশীরা ফ্রান্সের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির আবেদন করেন। এছাড়া বেকার সমস্যা নিরসনের জন্য সরকারি উদ্যোগে ফ্রান্সে এখনও বহু দক্ষ লোক পাঠানো যেতে পারে। ফ্রান্সের লোকদের মধ্যে এখনও মানবিক গুণাবলী লক্ষণীয়। তারা কখনই নির্যাতন পছন্দ করে না। প্যারিসে বাংলাদেশীদের কারো কোন অভাব অভিযোগ থাকার পরও মোটামুটি তারা ভালো আছেন। প্যারিস এলে কখনও ‘আইফেল টাওয়ার’ দেখতে ভুলবেন না। ফ্রান্সে  বাংলাদেশীদের শুভেচ্ছা নিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ