শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আগামীতে শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না

খুলনা অফিস : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামীতে দেশে শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়াও কোন নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রতি সপ্তাহে আদালতে যেতে হয়, এটি লজ্জাজনক ব্যাপার। সাজানো পাতানো বিচার ব্যবস্থায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হবে, নির্বাচনে অযোগ্য করা হবে-তা এদেশে হতে দেয়া হবে না। রাজনীতিবীদদের বিচার হবে জনগণের আদালতে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না এ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা থেকে বিরত থাকতে কথিত বোদ্ধা মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কি না তা নিয়ে চিন্তা করেন। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলেও তাদেরকে দেশত্যাগ করতে হবে না এ নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, তবে শাসনকালে যতো লুটপাট করেছেন, দুর্নীতি করেছেন, অনিয়ম করেছেন, অপরাধ করেছেন তার জন্য আপনাদেরকে আদালতে যেতে হতে পারে। আওয়ামী লীগ ‘আরামদায়ক প্রস্থানের’ পখ খুঁজছে দাবি করে তিনি বলেন, এতো অপকর্ম করেছেন, এতো অপরাধ করেছেন, যে ক্ষমতায় না থাকলে তারা রেহাই পাবেন না। এমনকি বিদেশে যাওয়াও পথ খোলা থাকবে না।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা ১১টায় নগরীর ইউনাইটেড ক্লাব মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বর্ষিয়ান জননেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, রবিউল ইসলাম রবি, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, স ম আব্দুর রহমান, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, রেহানা আক্তার, মাহ্বুব হাসান পিয়ারু, আজিজুল হাসান দুলু, শরিফুল ইসলাম বাবু।
সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শেখ মুজিবর রহমান, রহমতুল্লাহ পলাশ, মো. আশরাফ হোসেন, মোল্লা আবুল কাশেম, শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, শাহজালাল বাবলু, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ আমজাদ হোসেন, মাহ্বুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, শেখ হাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান দীপু, মহ্বিুজ্জামান কচি, শাহিনুল ইসলাম পাখী, শফিকুল আলম তুহনি, আজিজা খানম এলিজা, ইকবাল হোসেন খোকন, তরিকুল ইসলাম জহির, ইউসুফ হারুন মজনু, সাজ্জাদ আহসান পরাগ, সাজ্জাদ হোসেন তোতন, কামরান হাসান, হেলাল আহমেদ সুমন প্রমুখ।
শুরুতেই বেলুন, ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় দলীয় সঙ্গীতের তালে তালে করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থল বেলুনে, প্যানায় এবং শীর্ষ নেতাদের প্রতিকৃতিতে সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন ওয়ার্ড থানা ও ইউনিয়ন তেকে খন্ড খন্ড মিছিল সমাবেশস্থলে হাজির হয়।
গয়েশ্বর রায় আরো বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে আমাদের মাঝে যেমন উৎসাহ রয়েছে, প্রতিপক্ষরাও তাকে নিয়ে আতংকিত। জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে সুদৃঢ় করতে তারকে রহমানের কোন বিকল্প নেই। এ জন্য তাকে বিতর্কিত করতে তাদের যতো প্রয়াস। তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হলেও আজ সে আদর্শ থেকে অনেক দুরে সরে গেছে। শেখ হাসিনা এবং গণতন্ত্র পরস্পর সাংঘর্ষিক। হাসিনার হাতে গণতন্ত্র হত্যা হয়, গণতন্ত্র গুম হয়ে যায়। তাদের এই চরিত্রের কথা জনগন জানে। এ জন্য তারা ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় থাকতে চায়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নানা বিধিনিষেধের বেড়াজাল টপকে, প্রচার প্রচারণা ছাড়াই ১২ নবেম্বের বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি একটি জনসভা করেছে। সরকারি সংস্থার রিপোর্ট বলছে, স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় ১৮ নবেম্বর পাল্টা একটা সমাবেশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন বলছে, পাঁচ ভাগের এক ভাগ লোকও সেখানে হয়নি। সেই সময়ে প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের ভাষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্ত যে ভাষণ দিয়ে নেতা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করলেন তিনি নিজেই সে ভাষণে উদ্বুদ্ধ হতে পারলেন না। গ্রেফতার হয়ে চলে গেলেন পাকিস্তানে। আর সাধারণ জনগণ যুদ্ধ করলো।
বিচার ব্যবস্থা সংকটকাল অতিক্রম করছে দাবি করে তিনি বলেন, দেহত্যাগের ভয়তে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। প্রধান বিচারপতিবিহীন বিচার ব্যবস্থা চলতে পারেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ